যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি এবং প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ডাইনোসরের শরীরের আকার নিয়ে নতুন এক চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছেন। ইভোলিউশন জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, ডাইনোসরদের বিশাল শরীরের রহস্য আমাদের জানা থাকলেও, কেন তারা কখনোই অত্যন্ত ক্ষুদ্রাকৃতির প্রাণী হয়ে ওঠেনি তা বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে।
গবেষক দলের সদস্য ও ডাইনোসর প্যালিওবায়োলজির কিউরেটর রজার বেনসন জানিয়েছেন, ডাইনোসরদের শারীরিক গঠনের যে মডেল তৈরি করা হয়েছে, তাতে দেখা যায় যে পাখি, স্তন্যপায়ী বা কচ্ছপের ক্ষেত্রে শক্তির ব্যবহার ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যেভাবে শরীরের আকার নিয়ন্ত্রণ করে, ডাইনোসরের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি। এমনকি পাখির বাইরের ডাইনোসরদের মধ্যে ক্ষুদ্রতমটির ওজনও ছিল প্রায় এক পাউন্ড বা ৪৫৫ গ্রামের মতো, যা সাধারণ ইঁদুর বা চড়ুই পাখির তুলনায় অনেক বেশি।
কেন এই ক্ষুদ্রাকার ডাইনোসরের অভাব?
গবেষকদের মতে, জীবাশ্মের রেকর্ডে ক্ষুদ্র ডাইনোসর খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে যে তারা ছিল না, তা নয়। বরং পরিবেশগত চাপের কারণেই ডাইনোসররা ছোট হওয়ার সুযোগ পায়নি। সেই সময়ের ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী প্রাণীরা এমন সব পরিবেশগত জায়গা বা নিশে (Niche) বসবাস করত, যা ডাইনোসরদের ছোট হতে বাধা দিত। সহজ কথায়, স্তন্যপায়ী প্রাণীরাই ডাইনোসরদের সেই ক্ষুদ্রাকার সীমানায় ঢুকতে দেয়নি।
পাখিদের ভিন্ন পথ
বিবর্তন প্রক্রিয়ায় ডাইনোসর থেকেই পাখিদের উদ্ভব হয়েছে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওড়ার ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমেই পাখিরা সেই পরিবেশগত সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। উড়তে পারার কারণে পাখিরা নতুন নতুন আবাসে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছে, যা অন্য ডাইনোসরদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। আর এ কারণেই পাখিরা বিবর্তনের ধারায় ক্ষুদ্রাকার শরীর লাভ করতে পেরেছে।
গবেষক স্টেফানি লেচকি মনে করেন, আজকের পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য বুঝতে হলে ডাইনোসরদের এই ক্ষুদ্রাকার হওয়ার সীমাবদ্ধতা কেন ছিল, তা জানা জরুরি। এই গবেষণা ডাইনোসরদের বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও স্পষ্ট করবে।