যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিনের গবেষকরা ওজন কমানোর জন্য নতুন একটি ওরাল পিল বা বড়ি উদ্ভাবন করেছেন। নেচার মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, স্থূল বা অতিরিক্ত ওজনের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের ওপর চালানো ৩৬ সপ্তাহের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে এই ওষুধ ব্যবহারের ফলে তাদের শরীরের ওজন ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে দেখা গেছে। এই উদ্ভাবনের মাধ্যমে ওজন কমানোর চিকিৎসায় ইনজেকশন ব্যবহারের জটিলতা দূর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ওজেম্পিক বা ওয়েগোভির মতো ওজন কমানোর ওষুধগুলো ইনজেকশন হিসেবে শরীরে প্রবেশ করাতে হয়। এই পদ্ধতি অনেক রোগীর জন্য কষ্টসাধ্য এবং তা সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজের প্রয়োজন হয়। গবেষক দলের অন্যতম সদস্য রবার্ট কুশনার জানান, নতুন এই ওষুধের নাম ‘অ্যালেনিগ্লিপন’। এটি একটি ক্ষুদ্র অণু বা স্মল-মলিকিউল ড্রাগ, যা প্রতিদিন একবার মুখ দিয়ে সেবন করতে হয়। এটি তৈরির প্রক্রিয়া বর্তমান ইনজেকশনগুলোর চেয়ে সহজ এবং সাশ্রয়ী হতে পারে।
গবেষণার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮টি চিকিৎসা কেন্দ্রে ২৩০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর এই ট্রায়াল চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের তিনটি ভিন্ন মাত্রার (৪৫, ৯০ ও ১২০ মিলিগ্রাম) ওষুধ সেবন করানো হয়। ৩৬ সপ্তাহ পর দেখা যায়, যারা ১২০ মিলিগ্রাম ডোজ গ্রহণ করেছেন, তাদের শরীরের গড় ওজন ১২.১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, প্লেসবো বা ওষুধের বিকল্প গ্রহণকারীদের ওজন মাত্র ০.৫ শতাংশ কমেছে।
অ্যালেনিগ্লিপন ওষুধটি রক্তে ইনসুলিনের নিঃসরণ বাড়িয়ে ক্ষুধা কমিয়ে দেয় এবং পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি করে। গবেষকদের মতে, ক্লিনিকাল ট্রায়ালে গুরুতর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। যেসব সমস্যা দেখা গেছে, তা ছিল হালকা থেকে মাঝারি পর্যায়ের। আগামীতে এই ওষুধের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল পরিচালনার পরিকল্পনা করছেন গবেষকরা।