যুক্তরাজ্যের লন্ডনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের এক নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তারা তাদের উপার্জিত বিশাল সম্পদ দাতব্য কাজে ব্যয় করার অঙ্গীকার করেছেন। ইনএফ্যাবল ইন্টেলিজেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড সিলভার জানিয়েছেন, তার কোম্পানির ভবিষ্যৎ বিক্রয়লব্ধ অর্থের পুরো অংশই তিনি মানবকল্যাণে দান করবেন। এআই প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে এমন প্রতিশ্রুতি বিশ্বের জনহিতকর কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সিলভারের মতে, বিশ্বের সমস্যাগুলোর সমাধানে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে সম্পদের সঠিক ব্যবহার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি লন্ডনে তার কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তার লক্ষ্য হলো কোম্পানির শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দিয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জীবন রক্ষা করা। সিলভার ছাড়াও ডিপমাইন্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মুস্তফা সুলেমান এবং লাভএবল-এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্টন ওসিকাসহ অনেকে একই পথে হাঁটছেন।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সমাজবিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্কও রয়েছে। এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক লিনসে ম্যাকগোই বলেন, ধনকুবেরদের এই দান পুঁজিবাদী ব্যবস্থার তৈরি বৈষম্য পুরোপুরি দূর করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। অনেক সমালোচক মনে করছেন, এটি অগ্নিকাণ্ড ঘটানো ব্যক্তির দ্বারা আগুন নেভানোর চেষ্টার মতো। তারা বলছেন, দানশীলতা দিয়ে সিস্টেমের মূল সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব নয়।
ফাউন্ডার্স প্লেজ নামক একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিলভার তার দাতব্য প্রতিশ্রুতিকে আইনি রূপ দিয়েছেন। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি উদ্যোক্তাদের সম্পদ দান করার চুক্তিতে আবদ্ধ হতে সহায়তা করে। সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ায় সংস্থাটিতে প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এআই খাতের এই উদ্যোক্তারা মনে করেন, প্রযুক্তির এই রূপান্তর মানবসভ্যতার জন্য সবচেয়ে বড় ঘটনা হতে যাচ্ছে। তাই ব্যক্তিগত লোভের চেয়ে মানবতাকে প্রাধান্য দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে সমালোচকদের সতর্কবার্তা, দানশীলতা যেন ব্যবসায়িক অদূরদর্শিতা বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়মুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।