যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপল ডিভাইসের ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষা ও হোম স্ক্রিন গুছিয়ে রাখার সুবিধার্থে আইফোন বা আইপ্যাডে অ্যাপ লুকানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চালু করেছে। অ্যাপলের তথ্যানুযায়ী, আইওএস ১৮ (iOS 18) সংস্করণের পর থেকে ব্যবহারকারীরা কোনো অ্যাপের ওপর দীর্ঘক্ষণ চেপে ধরে ‘Require Face ID’ অপশনটি নির্বাচন করতে পারেন। এর ফলে ফেস আইডি বা পাসকোড ছাড়া অ্যাপটি খোলা যাবে না এবং এর কোনো নোটিফিকেশনও দেখা যাবে না।
অ্যাপ লুকানোর পদ্ধতি
অ্যাপ লুকানোর জন্য হোম স্ক্রিনে থাকা অ্যাপের আইকনে চেপে ধরে ‘Hide and Require Face ID’ নির্বাচন করতে হয়। এর ফলে অ্যাপটি হোম স্ক্রিন ও সার্চ রেজাল্ট থেকে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। লুকানো অ্যাপগুলো অ্যাপ লাইব্রেরির একদম নিচে ‘Hidden’ নামের একটি বিশেষ ফোল্ডারে জমা থাকে। সেখানে প্রবেশের জন্য পুনরায় বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশন প্রয়োজন হয়। পরে প্রয়োজনে একই উপায়ে অ্যাপটি আনহাইড বা সাধারণ মোডে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
কেন অ্যাপ লুকানো জরুরি
আর্থিক অ্যাপ বা সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ফিচারটি অত্যন্ত কার্যকর। অনেক সময় অপরিচিত কারো হাতে ফোন দিলে তারা দ্রুত অর্থ লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য দেখার সুযোগ নিতে পারে। ফেস আইডি লক ব্যবহারের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, লুকানো অ্যাপের অস্তিত্ব সেটিংসে ব্যাটারি ব্যবহারের তালিকা বা স্ক্রিন টাইম রিপোর্টে দেখা যেতে পারে।
অ্যাপ স্টোর ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতা
অ্যাপ স্টোরের কেনাকাটার ইতিহাস থেকেও অ্যাপ লুকিয়ে রাখা সম্ভব, তবে এটি মূলত অ্যাপের উপস্থিতি আড়াল করার চেয়ে তালিকা পরিষ্কার রাখার জন্য কার্যকর। এছাড়া ব্যবহারকারীরা স্ক্রিন টাইমের মাধ্যমে অ্যাপের ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ বা নির্দিষ্ট সময় অ্যাপ বন্ধ রাখার (Downtime) মতো সুবিধাও ব্যবহার করতে পারেন। কোনো অ্যাপ থেকে আসা বিরক্তি এড়াতে নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ বা সার্চ রেজাল্ট থেকে সেটি সরিয়ে ফেলার সুযোগও রয়েছে।