যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, এক সময়ের শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মাইস্পেস ফের চালু করার পরিকল্পনা করছেন এর মালিক ভ্যানডারহুক ভাইয়েরা। যদিও নতুন করে চালুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা কারিগরি বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মাইস্পেসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ভায়ান্টের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তাদের কাছে এ বিষয়ে দেওয়ার মতো নতুন কোনো তথ্য নেই। তবে প্ল্যাটফর্মটি পুনরায় ফিরে আসার খবরে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন এর পুরোনো ব্যবহারকারীরা।
আটলান্টার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট মন্টিকা হকিন্সের কাছে মাইস্পেস মানে ছিল নিজের মতো থাকার একটি জায়গা। তিনি জানান, সেখানে কোনো ফিল্টার ছাড়া একদম স্বাভাবিক ছবি দেওয়া যেত, যা বর্তমান সময়ের কৃত্রিম প্ল্যাটফর্মগুলোতে সম্ভব নয়। একইভাবে টিকটক তারকা মেলিসা ক্রিস্টিন মনে করেন, মাইস্পেস ছিল ইন্টারনেটে নিজের ব্যক্তিগত একটি জগত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন করে ফিরলে মাইস্পেস যেন বর্তমানের অ্যালগরিদম ও পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার দিকে না ঝুঁকে ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেয়।
২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করা মাইস্পেস এক সময় অ্যাডেল বা আর্টিক মাঙ্কিসের মতো শিল্পীদের পরিচিতি পাওয়ার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ফেসবুকের সহজ ডিজাইনের কাছে এক সময় তারা জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইস্পেস যদি ফের সফল হতে চায়, তবে তাদের ইতিহাসের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে হবে। অ্যাক্রন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আলেক্সা ফক্সের মতে, প্ল্যাটফর্মটি সহজবোধ্য ও ব্যবহারকারী-বান্ধব হওয়া জরুরি।
সোশ্যাল মিডিয়া কৌশলবিদ অ্যালেক্স মিলস মনে করেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে ২০০০ সালের শুরুর দিকের নান্দনিকতা বা নস্টালজিয়া বেশ আকর্ষণীয়। তাই মাইস্পেস যদি মেটা বা টিকটকের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা না করে বরং একটি বিশেষ ঘরানার (নিশ) প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের সংগীত ও ব্যক্তিগত সৃজনশীলতার পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে পারে, তবেই তারা সফল হতে পারবে।