বাংলাদেশের ঢাকায় সোমবার (১০ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন। পাসের হারের দিক থেকে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের এগিয়ে থাকা এবারের ফলাফলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক।
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় ছেলেদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ, সেখানে মেয়েদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ১১ হাজার ৭৯১ জন। পরীক্ষায় ছাত্র সংখ্যা সামান্য বেশি হলেও উত্তীর্ণ হওয়ার সংখ্যায় মেয়েরা বেশ এগিয়ে। এবার ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন ছাত্রের বিপরীতে ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী এবং ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র। অর্থাৎ ছাত্রদের চেয়ে ১১ হাজার ১১৬ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
বিভাগভিত্তিক চিত্র
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে দেখা গেছে, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিনটি বিভাগেই মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় ভালো ফল করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৭৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৮৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৪১ দশমিক ১৪ শতাংশের বিপরীতে ছাত্রীদের ৫৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ব্যবধানটি সবচেয়ে বেশি, যা ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট।
সার্বিক ফলাফল
সামগ্রিকভাবে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট। এছাড়া গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ২২ হাজার ৩৫৬ জন কমেছে।