বাংলাদেশের ঢাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সোমবার (১০ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবারের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী কমলেও অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার বেড়েছে, যা শিক্ষাক্ষেত্রে এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিন দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ফল হস্তান্তর করেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন এবং ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন এবং ফেল করেছিল ৬ লাখ ৬৬০ জন। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী ৭৪ হাজার ৬০১ জন কমলেও ফেলের সংখ্যা বেড়েছে ৮৯ হাজার ৯২৮ জন।
পাসের হারের অবনমন
ফলাফলের এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক পাসের হারে। গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনে। অর্থাৎ ২২ হাজার ৩৫৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ প্রাপ্তি থেকে পিছিয়ে পড়েছে।
পরীক্ষা পদ্ধতি
উল্লেখ্য যে, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা পূর্ণ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরীক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়া গত ২১ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ মে শেষ হয়।