যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ইয়াং আমেরিকাস ফাউন্ডেশনের ‘ফ্রিডম অ্যাট ২৫০’ কনফারেন্সে তরুণ শিক্ষার্থীরা তাদের নানাবিধ উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলই বর্তমানে তরুণ ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট, অভিবাসন নীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে তাদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি করছে, যা অনেক সময় তাদের রাজনৈতিকভাবে চরমপন্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কোর্টনি গ্রেভস জানান, তরুণরা কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনযাপনের নিশ্চয়তা চায়। মুক্তবাজার অর্থনীতিই সমৃদ্ধি অর্জনের সেরা পথ বলে তিনি মনে করেন। এদিকে আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ব্রোডি বেকার বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও জবাবদিহিতার প্রশংসা করেছেন। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যালগরিদম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এগুলো আমেরিকানদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জ্যাকসন ব্যারিকে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতিকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রবল ভীতি কাজ করছে। জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নিক কামারজেল এআই-এর মাধ্যমে তথ্য বিকৃতি ও সেন্সরশিপের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, তরুণ আমেরিকানদের একটি বড় অংশ এআই-এর ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে।