সুইডেনের গোথেনবার্গের চালমার্স ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষকরা কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা ১০০০ গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লেই দু এবং তাংইউ হুয়াংয়ের নেতৃত্বে এই নতুন পদ্ধতিটি তৈরি করা হয়েছে, যা কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা দূর করতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোয়ান্টাম কম্পিউটার বর্তমানে ত্রুটিপ্রবণ এবং বাইরের পরিবেশের অতি ক্ষুদ্র পরিবর্তনেও এতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। কম্পিউটেশন যত ধীরগতির হয়, ত্রুটি তৈরির ঝুঁকি তত বেড়ে যায়। প্রথাগত কম্পিউটারে ভুল সংশোধনের উন্নত পদ্ধতি থাকলেও কোয়ান্টাম সিস্টেম অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সেখানে এই কাজ করা বেশ কঠিন।
নতুন এই উদ্ভাবন সম্পর্কে গবেষক লেই দু বলেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মৌলিক একক কিউবিট এতটাই সংবেদনশীল যে সামান্য বিচ্যুতিতেও তথ্যের ক্ষতি হতে পারে। গবেষক দলটি এই সমস্যা সমাধানে বসোনিক কোয়ান্টাম কোড ব্যবহার করেছেন, যেখানে তথ্য কিউবিটের পরিবর্তে সুপারকন্ডাক্টিং সার্কিটের ভেতরে মাইক্রোওয়েভ ফিল্ডে সংরক্ষণ করা হয়।
সাধারণত কোয়ান্টাম স্টেট নিয়ন্ত্রণের জন্য কয়েক হাজার বার বারবার ড্রাইভ সাইকেলের প্রয়োজন হয়। তবে নতুন এই পদ্ধতিতে ‘কোয়ান্টাম ল্যাটিস গেট’ ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র একটি ড্রাইভ সাইকেলেই জটিল অপারেশন সম্পন্ন করা সম্ভব। গবেষক তাংইউ হুয়াং এটিকে লেগো ব্লক নির্মাণের সাথে তুলনা করে বলেন, ইট গেঁথে দীর্ঘ সময় ব্যয় না করে এটি প্রাক-নির্মিত মডিউলের মতো দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে পারে।
এই প্রযুক্তিটি সুপারকন্ডাক্টিং কোয়ান্টাম কম্পিউটারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। বর্তমানে চালমার্স ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ১০০-কিউবিটের কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে এবং সেখানে এই নতুন পদ্ধতির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা চলছে। গবেষকদের আশা, এটি ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে আরও নির্ভরযোগ্য ও দ্রুতগতির করে তুলবে।