যুক্তরাষ্ট্রের এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর এআই মডেল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যারা প্রতিষ্ঠানটির ‘ক্লড’ মডেল ব্যবহার করে সম্ভাব্য জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলো বিজ্ঞানীদের দ্বারা বিভিন্ন সংবেদনশীল গবেষণায় অপব্যবহার করা হচ্ছে, যা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ।
অ্যানথ্রোপিকের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স প্রধান জ্যাকব ক্লেইন নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, এটি কোনো সাধারণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নয় বরং অত্যন্ত জটিল ও সূক্ষ্ম বিষয়। অনেক সময় বৈধ টিকা গবেষণার সঙ্গে জৈব অস্ত্র তৈরির গবেষণার পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে, তাই প্রতিষ্ঠানটি সব ক্ষেত্রেই সতর্কতামূলক অবস্থান নিয়েছে।
প্রতিবেদনে পাঁচটি পৃথক ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি ঘটনায় দেখা যায়, একজন ব্যবহারকারী চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের ‘গেইন-অফ-ফাংশন’ গবেষণার জন্য অনুদান পাওয়ার আবেদন লিখতে ক্লড-এর সহায়তা চেয়েছিলেন। ওই গবেষণায় ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। যেহেতু গবেষণার সঙ্গে একটি সামরিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা ছিল, তাই অ্যানথ্রোপিক দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।
এ ছাড়াও বার্ড ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণা এবং বিষাক্ত টক্সিন পেপটাইড তৈরির জিনগত বিন্যাস অপ্টিমাইজ করার কাজেও ক্লড ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। নজরদারি টুল হিসেবে বা সাইবার হামলার কাজেও এআই মডেল ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অ্যানথ্রোপিক অভিযুক্ত বিজ্ঞানী ও তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এবং অভিযুক্তরা পেশাদার বিজ্ঞানী হওয়ায় তাদের নাম বা ল্যাবরেটরির পরিচয় প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এই তদন্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে ভবিষ্যতে এআই মডেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।