ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু সংস্থা কোপার্নিকাস জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে আগস্ট ২০২৬ ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম মাস। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই আগস্ট মাসটি ২০২৩ সালের জুলাই মাসের সমান উষ্ণ ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী জনজীবন, অর্থনীতি এবং বাস্তুসংস্থানের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
কোপার্নিকাসের তথ্যমতে, আগস্ট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পযুগের গড়ের তুলনায় ১.৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। ইউরোপীয় সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টের জলবায়ু বিষয়ক প্রধান সামান্থা বার্জেস জানিয়েছেন, সমুদ্রের পৃষ্ঠের রেকর্ড তাপমাত্রা এবং পশ্চিম ইউরোপের উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল নির্দেশ করছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
গ্রীষ্মের এই তীব্র দাবদাহে জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেনে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে গবেষকরা ধারণা করছেন। একই সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে এবং উত্তর আমেরিকায় কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলে দাবানলের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
এল নিনোর প্রভাব এবং জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই সংকট তৈরি হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে আগামী গ্রীষ্মকাল বর্তমান সময়ের চেয়েও উত্তপ্ত হতে পারে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন যে, এই দাবদাহ, দাবানল ও বন্যা আসন্ন বিপদের পূর্বাভাস। দীর্ঘমেয়াদী তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বন্ধ করে কার্বন নিঃসরণ কমানোর কোনো বিকল্প নেই।