যুক্তরাজ্যের লন্ডনে জুলাই মাসে দেশটির অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যার পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের অবদান রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পরিসংখ্যান কার্যালয় ওএনএস-এর পরিচালক লিজ ম্যাককিউন। ওএনএস-এর তথ্যমতে, জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল কোনো প্রবৃদ্ধি না হওয়ার। এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল সেবা খাত এবং বিশেষ করে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং।
এআই খাতের প্রভাব
জুলাই মাসের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এআই এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা স্পষ্ট বলে জানিয়েছে ওএনএস। অনেক আইটি প্রতিষ্ঠান যারা জুলাই মাসে বড় অংকের লেনদেন করেছে, তারা এআই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত। তবে এই প্রযুক্তির ঠিক কতটুকু প্রভাব অর্থনীতিতে পড়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। এছাড়া জুলাই মাসের আবহাওয়া এবং ফুটবল বিশ্বকাপও বিভিন্ন শিল্পে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে জানা গেছে।
অর্থনীতির ভবিষ্যৎ ও ঝুঁকি
ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া এবং এর ফলে যুক্তরাজ্যে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ পল ডেলস জানান, বছরের প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও অর্থনীতি কিছুটা সহনশীলতা দেখালেও উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও ঋণের সুদ হার প্রবৃদ্ধিকে মন্থর করতে পারে।
চ্যান্সেলর জন হেলি বলেছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে। তবে ছায়া চ্যান্সেলর অ্যান্ড্রু গ্রিফিথ সতর্ক করে বলেছেন, নির্মাণ ও উৎপাদন খাত সংকুচিত হওয়া এবং বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো উদ্বেগের কারণ। কেপিএমজি-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়েল সেলফিন যোগ করেন, প্রবৃদ্ধির এই ইতিবাচক চিত্রটি ব্যক্তিগত পর্যায়ের অর্থনৈতিক চাপের বাস্তবতাকে আড়াল করছে, কারণ খুচরা ও আতিথেয়তা খাতের মতো ভোক্তা-কেন্দ্রিক সেবাগুলোতে সংকোচনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।