যুক্তরাষ্ট্রের একটি পডকাস্টের রেকর্ডিংয়ে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচার ও তার প্রতি প্রাপ্ত বিশেষ সুবিধার বিষয়টিকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন ওপ্রাহ উইনফ্রের আমন্ত্রিত অতিথিরা। গত সপ্তাহে ক্ল্যান্সির সন্তানদের হত্যার বিচারিক প্রক্রিয়া কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর এই পডকাস্টটি রেকর্ড করা হয়। ২০২৩ সালে নিজ তিন সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচারে আদালত কোনো রায় দিতে না পেরে মিসট্রায়াল বা বিচার অকার্যকর ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওবি-জিওয়াইএন (OB/GYN) বিশেষজ্ঞ ডা. কামিলা ফিলিপস। তিনি লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচারের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় বর্ণ ও সামাজিক অবস্থানের পার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেন, ক্ল্যান্সির মতো সুযোগ-সুবিধা বা শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই এমন অশ্বেতাঙ্গ নারীদের প্রতিও যেন সমান সহমর্মিতা দেখানো হয়। ডা. ফিলিপস আরও বলেন, সারা দেশের কারাগারগুলোতে এমন অনেক অশ্বেতাঙ্গ নারী রয়েছেন যারা একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হলেও ক্ল্যান্সির মতো সমর্থন বা সুযোগ পান না। তার এই বক্তব্যে অনুষ্ঠানের দর্শকরা হাততালি দিয়ে সমর্থন জানান।
লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচারের সময় আদালতের বাইরে শত শত মানুষের ভিড় এবং তার প্রতি সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে একে সমর্থন জানালেও সমালোচকরা বলছেন, ক্ল্যান্সির এই বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থান বর্ণবৈষম্যের প্রতিফলন।
ডা. ফিলিপস এবং ওপ্রাহ উইনফ্রে উভয়ই পোস্টপার্টাম সাইকোসিস বা প্রসবোত্তর মানসিক সমস্যা নিয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তবে সমালোচকরা বলছেন, মানসিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে ভয়াবহ অপরাধকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ডা. ফিল ও অন্যান্য বিশ্লেষকরা বিষয়টি নিয়ে মত দিয়েছেন যে, মানসিক স্বাস্থ্য বা অসুস্থতার বিষয়টি যেন কেবল রাজনৈতিক বা আদর্শিক হাতিয়ারে পরিণত না হয়। ক্ল্যান্সির মামলার মতো ঘটনার পেছনে দায়ী কারণগুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুদের ন্যায়বিচারের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।