যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম জেডডিনেট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাইবার হামলার ক্ষয়ক্ষতি এবং এর ফলে সৃষ্ট অচলবস্থা থেকে বাঁচতে এখন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য রিকভারি রেডিনেস বা দ্রুত পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি নেওয়া অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ৯০ শতাংশেরও বেশি র্যানসমওয়্যার হামলায় আক্রমণের লক্ষ্য থাকে প্রতিষ্ঠানের ব্যাকআপ ফাইলগুলো নষ্ট বা পরিবর্তন করা, যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে হ্যাকাররা সফল হয়।
ব্যাকআপ এবং পুনরুদ্ধারের মধ্যে পার্থক্য
অনেক প্রতিষ্ঠান মনে করে কেবল ডেটার প্রতিলিপি বা ব্যাকআপ রাখলেই তারা নিরাপদ, যা একটি বড় ভুল ধারণা। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইউএস চেম্বার অব কমার্সের এক জরিপে ৯৪ শতাংশ ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়িক নেতা দাবি করেছেন যে কোনো বিপর্যয় ঘটলে তাদের প্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে, কিন্তু বাস্তবে মাত্র ২৫ শতাংশের কাছে উপযুক্ত রিকভারি অবকাঠামো রয়েছে। ব্যাকআপ হলো কেবল ডেটার কপি রাখা, অন্যদিকে রিকভারি হলো হামলার সময় দ্রুত কার্যক্রম সচল করে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি ও গ্রাহক হারানো থেকে বাঁচার ক্ষমতা।
পরিচয়ভিত্তিক আক্রমণ ও ক্লাউড নিরাপত্তা
বর্তমানে হ্যাকাররা ফায়ারওয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পরিবর্তে পরিচয় শনাক্তকরণ বা আইডেন্টিটি-ভিত্তিক কৌশলে আক্রমণ করছে। তারা লিডইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে প্রশাসনিক বা উচ্চপর্যায়ের অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া মাইক্রোসফট বা গুগলের মতো ক্লাউড সেবাদাতারা মূলত সেবার নিশ্চয়তা দেয়, কিন্তু ডেটার সুরক্ষা ও তা পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব ব্যবহারকারী বা প্রতিষ্ঠানের ওপরই বর্তায়।
ঝুঁকি ও করণীয়
গবেষণা বলছে, মাত্র ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের হাইব্রিড পরিবেশে সমন্বিত ব্যাকআপ সুরক্ষা রয়েছে। কেবল ব্যাকআপ রাখলেই হয় না, বরং তা নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অনেক সময় ব্যাকআপ ফাইলগুলো কার্যকর থাকে না বা সিস্টেম বুট হতে সমস্যা করে। এজন্য আধুনিক সাইবার সহনশীলতা নিশ্চিত করতে ইমিউটেবল ব্যাকআপ, স্বাধীন শংসাপত্র এবং নিয়মিত রিকভারি ড্রিল বা মহড়া প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও বিমা কোম্পানিগুলোও সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার প্রমাণ বা রিকভারি প্ল্যান থাকা বাধ্যতামূলক করছে।