যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনসিনাটিতে ৭ বছর বয়সী উইলিয়াম ইভান্সকে হত্যার ঘটনায় তার মা ক্যাটলিন ইভান্স এবং দুই সহ-অভিভাবক কার্বি র্যাঙ্কিন ও নেসা কিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির দাদা-দাদি মাইক এবং টিনা ইভান্স তাদের নাতির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে একজন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর নিয়োগ করার পর পুলিশি তদন্তে এই ভয়াবহ নির্যাতনের তথ্য উঠে আসে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির মা ক্যাটলিন ইভান্স এবং তার দুই সহযোগী কার্বি র্যাঙ্কিন ও নেসা কিনি আদালতে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিনসিনাটি পুলিশের তদন্তে জানা যায়, শিশু উইলিয়ামকে তার বাড়ির একটি ক্লোজেটে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা কাইল স্মিথ আদালতে জানান, গত দুই মাসে শিশুটিকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, এটি তার পেশাগত জীবনে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলোর একটি। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে দীর্ঘ সময় পানির নিচে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন শিশুটির মা ক্যাটলিন ইভান্স হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দাবি করেন যে, তার এক সঙ্গী তাকে হত্যার চেষ্টা করছে এবং তার ছেলেকে অপহরণ করেছে। এরপর পুলিশি তল্লাশিতে ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শিশুটির দাদা-দাদি জানিয়েছেন, মৃত্যুর ছয় সপ্তাহ আগেই উইলিয়াম তাদের কাছে জানায় যে সে আর সেই বাড়িতে ফিরতে চায় না। এরপর থেকে মা তাদের সঙ্গে উইলিয়ামের যোগাযোগ সীমিত করে দেন। শেষবার দেখার সময় শিশুটির কাঁধে আঘাতের চিহ্ন দেখেছিলেন বলে জানান দাদা-দাদি। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই তারা নজরদারি বাড়ানোর জন্য প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর নিয়োগ করেছিলেন। বর্তমানে সিনসিনাটি পুলিশের হোমিসাইড ইউনিট এই মামলার তদন্ত করছে।