যুক্তরাজ্যের লন্ডনে আসন্ন সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ চশমার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার হতে যাওয়া ১৯৯৯ সালের পর যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় এই মহাজাগতিক ঘটনাটি নিরাপদে পর্যবেক্ষণ করতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অনুমোদিত চশমা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন, যা বর্তমানে বাজারে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
লন্ডনের একটি বেকারি দোকানে সাধারণ খাদ্যসামগ্রীর পরিবর্তে এখন চশমা কেনার জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। দোকানটির এক কর্মী জানান, কেবল সকালের মধ্যেই তারা শতাধিক চশমা বিক্রি করেছেন। চাহিদা তুঙ্গে থাকায় অনলাইন বিক্রেতারাও চশমার মজুদ শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। রয়্যাল মিউজিয়াম গ্রিনিচের মতো অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রগুলোও অভূতপূর্ব চাহিদার কারণে চশমাশূন্য হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সূর্যের দিকে খালি চোখে তাকালে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। এমনকি সাধারণ সানগ্লাস ব্যবহার করেও এই ক্ষতি থেকে বাঁচা সম্ভব নয়। যুক্তরাজ্যের হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ) জানিয়েছে, চশমায় অবশ্যই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড আইএসও ১২৩১২-২ যুক্ত থাকতে হবে।
চশমা না পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনিচের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইমো বেল পিনহোল প্রজেক্টর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে সরাসরি সূর্যের দিকে না তাকিয়েও নিরাপদে গ্রহণ দেখা সম্ভব। এছাড়াও যারা চশমা সংগ্রহ করতে পারেননি, তাদের জন্য বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ১৯৯৯ সালের সূর্যগ্রহণের সময়ও অনেকের চোখের ক্ষতি হয়েছিল। তাই ঝুঁকি না নিয়ে কেবল অনুমোদিত চশমা ব্যবহার বা পরোক্ষ পদ্ধতিতে গ্রহণ দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।