যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটঅ্যাওয়ার প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম কালশির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের অভিযোগ, কালশি তাদের অনুমতি ছাড়াই নিজেদের জুয়া বা বেটিং প্ল্যাটফর্মে তাদের নাম ও তথ্য ব্যবহার করছে। এই আইনি পদক্ষেপটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডাটা ব্যবহারের বৈধতা ও কপিরাইট সুরক্ষার বিষয়টি সামনে এসেছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ফ্লাইটঅ্যাওয়ারকে কোনো ধরনের অবহিত না করেই কালশি তাদের ডাটা ও ট্রেডমার্ক ব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে একটি সিজ-অ্যান্ড-ডিসিস্ট (বন্ধ করার নির্দেশ) নোটিশ পাঠানোর পরও কালশি তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের মতে, এতে তাদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং শর্তাবলী লঙ্ঘিত হয়েছে। এজন্য তারা আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি কালশির বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত জুলাই ২০২৬ সালে, যখন কালশি তাদের প্ল্যাটফর্মে বিমানবন্দরের ফ্লাইট বাতিলের হারের ওপর বাজি ধরার সুবিধা চালু করে। সে সময় কালশি দাবি করেছিল যে, তারা ফ্লাইটঅ্যাওয়ার ও মার্কিন পরিবহন দপ্তরের তথ্য যাচাই করে এই সেবা দিচ্ছে। তবে ফ্লাইটঅ্যাওয়ার তখনই স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, তাদের ডাটা এমন কাজের জন্য ব্যবহারের কোনো অনুমোদন নেই এবং এটি তাদের ব্যবহারের শর্তাবলীর পরিপন্থী।
ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানিয়েছে, মিডিয়ার মাধ্যমে তারা বিষয়টি সম্পর্কে প্রথম অবগত হয়। কালশির কর্মকাণ্ডে বিমান শিল্প নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ফ্লাইটের ওপর ভিত্তি করে প্রেডিকশন মার্কেট চালু থাকলে তা আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, কালশি বর্তমানে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দায়ের করা আরেকটি মামলার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ জুয়া পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। কালশি অবশ্য ইনসাইডার ট্রেডিং রোধ ও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বাজি ধরা সীমিত করার দাবি করেছে। তবে ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের এই মামলা কালশির ব্যবসায়িক মডেলের আইনি জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।