জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবহার করে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরের ঘনত্ব পরিমাপের একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বায়ুমণ্ডলের এমন একটি অংশ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন, যা আগে বেশ কঠিন ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মামোরু ইয়ামামোতো জানিয়েছেন, মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রকৌশলবিদ্যার সমন্বয়ে এই গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে।
সাধারণত পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ১০০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা বায়ুমণ্ডলের অংশটিকে থার্মোস্ফিয়ার বলা হয়। এই স্তরের ঘনত্ব নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা স্যাটেলাইটের গতিপথ নির্ধারণ এবং মহাকাশের যানজট নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকরা স্টারলিংকের প্রায় ১,২০০টি স্যাটেলাইটের কক্ষপথের তথ্য ব্যবহার করে টমোগ্রাফি প্রযুক্তির সহায়তায় এই মানচিত্র তৈরি করেছেন।
গবেষকদের দাবি, এটিই প্রথম কোনো টমোগ্রাফিক বিশ্লেষণ যা বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরের ভৌগোলিক কাঠামো উন্মোচন করেছে। তাদের এই গবেষণালব্ধ ফলাফল ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘সোয়ার্ম’ স্যাটেলাইটের তথ্যের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বর্তমানে মহাকাশে অসংখ্য স্যাটেলাইট ও মহাকাশ বর্জ্য থাকায় সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরের এই নির্ভুল মানচিত্র স্যাটেলাইটের গতিবিধি পূর্বাভাসে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রায় রিয়েল-টাইমে বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব পরিমাপ করা সম্ভব হবে, যা মহাকাশ অভিযানের নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করবে।