জার্মানির কোলোন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকসহ আন্তর্জাতিক একটি বিশেষজ্ঞ দল মস্তিষ্কের এমন একটি নেটওয়ার্ক ও বৈদ্যুতিক ছন্দ শনাক্ত করেছেন, যা পারকিনসন্স রোগের চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. আন্দ্রেয়াস হর্ন জানিয়েছেন, এই আবিষ্কারটি পারকিনসন্স রোগীদের জন্য ‘ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশন’ (ডিবিএস) বা গভীর মস্তিষ্ক উদ্দীপনা চিকিৎসাকে আরও নিখুঁত ও কার্যকর করে তুলবে।
গবেষণাটি ব্রেইন নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন কোলোন ও ডুসেলডর্ফ ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল এবং চ্যারিটি বার্লিনের স্নায়ুবিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা। এটিই প্রথম গবেষণা যেখানে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ সংকেত পরিমাপের পদ্ধতি এবং ইমেজিং প্রযুক্তিকে একত্রে ব্যবহার করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পারকিনসন্স রোগের চিকিৎসায় ডিবিএস তখনই সবচেয়ে ভালো কাজ করে যখন মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট একটি নেটওয়ার্ককে উদ্দীপ্ত করা হয়। এই নেটওয়ার্কটি মূলত ২০ থেকে ৩৫ হার্টজ গতির একটি বিশেষ বেটা ছন্দের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে। এতদিন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের সংকেতের স্থানাঙ্ক বা অবস্থান এবং সময়—এই দুটি বিষয়কে একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে পারেননি। এই গবেষণায় ৫০ জন রোগীর মস্তিষ্কের ১০০টি গোলার্ধ পর্যবেক্ষণ করে উভয় তথ্যই সফলভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে।
গবেষণার মূল লেখক ড. বাহনে বাহনার্স জানান, মস্তিষ্কের এই বিশেষ ছন্দটি সাবথলামিক নিউক্লিয়াস এবং সেরিব্রাল কর্টেক্সের মধ্যে যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত অঞ্চলগুলোকে উদ্দীপিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ডিবিএস সেটিংস আরও সূক্ষ্মভাবে সমন্বয় করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে যেসব রোগী বর্তমান চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না, তারা এই নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন।
বর্তমানে গবেষকরা মস্তিষ্কের নেটওয়ার্কগুলোতে এই উদ্দীপনা কীভাবে পরিবর্তন আনে, তা সরাসরি যাচাই করার জন্য কাজ করছেন। এই ফলাফল ভবিষ্যতে রোগীদের জন্য ব্যক্তিগত চাহিদানুযায়ী ডিবিএস চিকিৎসার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।