যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গাড়িতে ড্যাশ ক্যাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য জানা জরুরি। ড্যাশ ক্যাম সাধারণত দুর্ঘটনার প্রমাণ বা নিরাপত্তার জন্য উপকারী হলেও, এটি স্থাপনের স্থান ও অডিও রেকর্ডিংয়ের নিয়ম প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে আলাদা। সড়ক ভ্রমণের সময় কোনো আইনি জটিলতা এড়াতে যাত্রাপথের অঙ্গরাজ্যগুলোর ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অবগত থাকা আবশ্যক।
ড্যাশ ক্যাম স্থাপনের নিয়ম
বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যেই ড্যাশ ক্যাম ব্যবহারের প্রধান শর্ত হলো এটি যেন চালকের দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত না করে। আলাস্কা, অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, ইলিনয় ও ইন্ডিয়ানাসহ বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে এই নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় ড্যাশ ক্যাম বসানোর জন্য উইন্ডশিল্ডের নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারিত রয়েছে। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়া বা মিনেসোটার মতো কিছু এলাকায় উইন্ডশিল্ডে কোনো কিছু লাগানো নিষিদ্ধ, সেখানে ড্যাশ ক্যাম ড্যাশবোর্ডে স্থাপন করতে হয়। এছাড়া ডিভাইসের আকারের ওপরও অনেক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যেখানে সাধারণত পাঁচ ইঞ্চির কম আকারের ড্যাশ ক্যাম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
অডিও রেকর্ডিং সংক্রান্ত সতর্কতা
ক্যামেরার অবস্থানের পাশাপাশি অডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও আইন ভিন্ন। ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া ও ওয়াশিংটনসহ ১৩টি অঙ্গরাজ্যে গাড়িতে থাকা সকল যাত্রীর সম্মতি ছাড়া অডিও রেকর্ড করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ব্যক্তিগত গাড়িতে পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে এটি সমস্যা না হলেও, রাইড-শেয়ার বা সহকর্মীদের সাথে ভ্রমণের সময় এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা প্রয়োজন।
ভ্রমণকারীদের করণীয়
যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কেন্দ্রীয় আইন না থাকায়, যে অঙ্গরাজ্য দিয়ে ভ্রমণ করছেন সেখানকার নিয়মগুলো যাচাই করাই শ্রেয়। বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সবচেয়ে কঠোর আইন মানা অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী ড্যাশ ক্যাম সেটআপ করে রাখা ভালো। ভ্রমণের আগে ডিএমভি (DMV) ওয়েবসাইট থেকে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের আইন দেখে নেওয়া এবং প্রয়োজনে অডিও রেকর্ডিং বন্ধ রাখা বা উইন্ডশিল্ডের পরিবর্তে ড্যাশবোর্ডে ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।