যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার বেথেল পার্কের বাসিন্দা থমাস ম্যাথু ক্রুকস সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার প্রচেষ্টার আগে থেকেই মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন। এফবিআইয়ের সাবেক বিশেষ এজেন্ট জোনাথন গিলিয়ামের ভাষ্যমতে, সিনেটে জমা দেওয়া নতুন নথিপত্রগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হামলার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ক্রুকস এক ধরণের মতিভ্রম ও ম্যানিক বা উন্মাদগ্রস্ত অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এই তথ্যপ্রমাণ তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী, ক্রুকসের ঘনিষ্ঠরা হামলার আগের সপ্তাহগুলোতে তার অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেছিলেন। এফবিআইয়ের নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে, ক্রুকস প্রায়ই নিজের সঙ্গে কথা বলতেন এবং অসংলগ্ন আচরণ করতেন। তাকে প্রায়ই রাতভর জেগে নাচানাচি করতে ও বিড়বিড় করতে দেখা যেত। এছাড়া তার অস্থিরতা এবং শক্তির অতি-ব্যবহারের বিষয়টিও অন্যদের নজর এড়ায়নি। এক ব্যক্তি তাকে একটি রাসায়নিক তরল নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তা নিয়ে মিথ্যে অজুহাত দিয়েছিলেন, যা তার মানসিক অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ক্রুকস বিভিন্ন শ্যুটিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন এবং হামলার আগে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন। পেনসিলভানিয়ার এডিনবোরোতে একটি অস্ত্র দোকান থেকে তাকে গোলাবারুদ কিনতেও দেখা গেছে। তবে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের দাবি অনুযায়ী, ক্রুকসের সাথে অন্য কারো সংযোগ থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি পরিবারের বাইরের কারো সাথে তার যোগাযোগের নজিরও নেই বলে জানিয়েছে তদন্তকারী দল।
তবে এই ঘটনার পেছনে আরও গভীর কোনো কারণ লুকিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জোনাথন গিলিয়াম জোর দিয়ে বলেছেন, ক্রুকসের মানসিক অবস্থা এবং তার অনলাইন কর্মকাণ্ডের প্রভাব তদন্তে গুরুত্বের সাথে দেখা প্রয়োজন। এছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা বা বিদেশী সরকারের সাথে যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো অস্পষ্ট।