যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় টর প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষ নতুন একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ উন্মোচন করেছে, যার নাম ‘স্নোফ্লেক ভলান্টিয়ার’। এই অ্যাপটি ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বিশ্বজুড়ে চলা ইন্টারনেট সেন্সরশিপ মোকাবিলায় সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারবেন। অ্যাপটির মাধ্যমে প্রযুক্তিগত জটিল জ্ঞান ছাড়াই যে কেউ তার স্মার্টফোনকে টর নেটওয়ার্কের একটি প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দিতে পারবেন, যা নিপীড়িত অঞ্চলের মানুষের ইন্টারনেট সংযোগ পেতে সহায়তা করবে।
ব্লকো, টর নেটওয়ার্ক এবং গার্ডিয়ান প্রজেক্টের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই অ্যাপটি গুগল প্লে-স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যা স্বৈরাচারী সরকার বা রাষ্ট্রগুলোর পক্ষে ব্লক করা কঠিন হয়ে পড়বে। যারা এমন সব দেশে বসবাস করেন যেখানে ইন্টারনেটে অবাধ প্রবেশাধিকার রয়েছে, তারা এই অ্যাপের মাধ্যমে অন্যের জন্য ইন্টারনেটের দুয়ার খুলে দিতে পারেন।
অ্যাপটি ব্যবহারের প্রক্রিয়া খুবই সহজ। এটি ইন্সটল করার পর ব্যবহারকারী তার পছন্দমতো সেটিংস নির্ধারণ করতে পারবেন। যেমন—ফোন চার্জে থাকা অবস্থায় অথবা শুধুমাত্র ওয়াইফাই সংযুক্ত থাকলে এটি কাজ করবে কি না, তা ব্যবহারকারী নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এছাড়া কতজনকে একই সময়ে সহায়তা করা যাবে, তারও সীমা নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে।
অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়ে ডেভেলপাররা জানিয়েছেন, এতে ভলান্টিয়ারদের কোনো ঝুঁকি নেই। ব্যবহারকারী যখন কাউকে প্রক্সি সংযোগ দেন, তখন তাদের ব্রাউজিং আইপি অ্যাড্রেস ভলান্টিয়ারের নিজস্ব আইপি নয়, বরং টর এক্সিট নোডের সাথে মিলে যায়। ফলে কোনো আইনি ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে না।
টর নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং তথ্য ফাঁসকারীদের গোপনীয়তা রক্ষায় সহায়তা করে আসছে। স্নোফ্লেক ভলান্টিয়ারের মাধ্যমে এখন সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরাও এই বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে পারছেন। অ্যাপটির ড্যাশবোর্ডে রিয়েল-টাইমে দেখা যায় কতজনকে সহায়তা করা হচ্ছে এবং কী পরিমাণ ডেটা আদান-প্রদান করা হয়েছে, যা ভলান্টিয়ারদের তাদের কাজের প্রভাব সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা দেয়।