যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোয় একটি প্রযুক্তি সম্মেলনে ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বিশ্ববাসীর ভয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। তবে এই প্রযুক্তির বিকাশ ও সুরক্ষায় এআই কোম্পানিগুলোর ওপর আস্থা রাখা উচিত। সম্মেলনে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার কোম্পানি এবং একই খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক পথে কাজ করবে কারণ তারা এই প্রযুক্তির বিশাল প্রভাব সম্পর্কে সচেতন।
সম্মেলনে অল্টম্যান স্বীকার করেন, এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন আর এটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে, তা কল্পনা করা কঠিন কিছু নয়। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তারা নিরাপত্তার বিষয়টিকে সক্ষমতার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে তারা উন্নয়নের গতি কমিয়ে দেবেন বা কার্যক্রম স্থগিত করবেন।
বর্তমানে এআই শিল্পে স্ব-নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিভিন্ন মত উঠে আসছে। মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গ এবং এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং মনে করেন, এআই ল্যাবগুলোর নিজস্ব সুরক্ষাব্যবস্থা থাকা জরুরি এবং এক্ষেত্রে সরকারি কঠোর আইনের চেয়ে কোম্পানিগুলোর দায়িত্বশীলতা বেশি কার্যকর। এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াং বলেন, সুরক্ষার বিষয়টি একটি প্রকৌশলগত সমস্যা এবং প্রযুক্তি নেতাদের নিজ থেকেই এর ঝুঁকি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তবে এই স্ব-নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। অ্যানথ্রপিক এক্সিকিউটিভ জ্যাক ক্লার্কের মতে, এআই শিল্পকে পুরোপুরি অনিয়ন্ত্রিত রাখা মানে চরম ঝুঁকির খেলা। লজিক্যাল ইন্টেলিজেন্সের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা প্যাট্রিক হিলম্যানের মতে, জনস্বার্থে কাজ করার ক্ষেত্রে মানুষ সিলিকন ভ্যালি বা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর খুব একটা ভরসা রাখতে পারছে না।
বর্তমানে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকসহ অন্যান্য বড় এআই ল্যাবগুলো নিরাপত্তার মানদণ্ড নির্ধারণে একে অপরের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি হস্তক্ষেপ থাকুক বা না থাকুক, এআই কোম্পানিগুলো স্বেচ্ছায় নিরাপদ প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।