যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক লেখক ডেভেন ম্যাকক্লুর ব্লুটুথ কোডেকের কার্যকারিতা এবং অডিওর গুণগত মান বজায় রাখার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। ব্লুটুথ প্রযুক্তি মূলত অডিও ডেটা আদান-প্রদান করে, আর এই কোডেক হলো এমন একটি পদ্ধতি যা সোর্স ডিভাইস থেকে হেডফোন বা স্পিকারে অডিও সিগন্যাল পৌঁছে দেয়। সহজ কথায়, কোডেক হলো অডিও ফাইল প্রেরণের একটি ভাষা, যা ডিভাইসের সীমাবদ্ধতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।
কোডেক বোঝার উপায়
কোন ব্লুটুথ কোডেকটি সেরা হবে তা মূলত নির্ভর করে আপনার ব্যবহৃত ডিভাইস এবং অডিওর মানের ওপর। অডিওর মান বিচারের জন্য তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— বিট রেট (প্রতি সেকেন্ডে প্রেরিত ডেটার পরিমাণ), অডিও বিট ডেপথ (শব্দের উচ্চ ও নিম্ন মানের সীমানা) এবং স্যাম্পল রেট (প্রতি সেকেন্ডে অডিওর স্ন্যাপশট)। এসবিসি (SBC) হলো স্ট্যান্ডার্ড কোডেক, যা প্রায় সব ব্লুটুথ ডিভাইসে থাকে। তবে এলডিএসি (LDAC) বা অ্যাপটিক্স (AptX)-এর মতো কোডেকগুলো ব্যবহারের জন্য ডিভাইসের সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করতে হয়।
সেরা কোডেক নির্বাচন
তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অ্যাপটিক্স লসলেস (AptX Lossless) এবং এলডিএসি (LDAC)-এর মতো কোডেকগুলো উচ্চমানের অডিও প্রদান করে। তবে কোডেকের বিট রেট বেশি মানেই সবসময় সেরা শব্দ নয়। অনেক সময় সাশ্রয়ী ব্যাটারি ব্যবহারের জন্য নির্মাতারা কোডেকের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করে দেন। এছাড়া মানুষের কান একটি নির্দিষ্ট মানের পর শব্দের সূক্ষ্ম পার্থক্য ধরতে পারে না, তাই অতি উচ্চমানের কোডেক ব্যবহারের ফলে ব্যাটারি দ্রুত খরচ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
কোডেক পরিবর্তনের পদ্ধতি
অডিও কোডেক পরিবর্তন করা ডিভাইসের ওপর নির্ভর করে। অ্যাপল ডিভাইসগুলো সাধারণত এএসি (AAC) এবং এসবিসি (SBC) সমর্থন করে। অন্যদিকে, অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ফোনের ‘ডেভেলপার অপশন’ থেকে ব্লুটুথ অডিও কোডেক পরিবর্তন করতে পারেন। এছাড়া ব্লুটুথ কোডেক চেঞ্জার জাতীয় থার্ড-পার্টি অ্যাপের মাধ্যমেও বিভিন্ন অডিও প্রোফাইল সেট করা সম্ভব।