যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগেজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে র্যামের (RAM) দাম গত ১৮ মাসে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই বছর জুড়ে তা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ প্রযুক্তিপণ্য থেকে শুরু করে কম্পিউটার ও ফোনের দাম বৃদ্ধির পেছনে এই র্যামের আকাশচুম্বী মূল্য একটি প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একে অনেকে র্যামের সংকট বা ‘র্যামপোকেলিপস’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
র্যাম বা র্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমোরি কম্পিউটারের একটি অপরিহার্য অংশ, যা প্রসেসরকে তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে সহায়তা করে। বর্তমানে স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স এবং মাইক্রন—এই তিনটি প্রতিষ্ঠান বিশ্বের অধিকাংশ র্যাম তৈরি করে। এসব প্রতিষ্ঠান ডিআরএএম (DRAM) ও এইচবিএম (HBM) প্রযুক্তির মেমোরি তৈরি করে, যার মধ্যে এআই প্রশিক্ষণের জন্য এইচবিএম-এর চাহিদা এখন তুঙ্গে।
মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ এআই
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, র্যামের বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানিগুলোর লাগামহীন চাহিদা। ওপেনএআই-এর মতো বড় বড় কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ পেয়ে বাজারের অধিকাংশ র্যাম সরবরাহ আগেই কিনে নিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সাল পর্যন্ত অনেক নির্মাতার র্যাম উৎপাদনের সক্ষমতা আগেভাগেই বিক্রি হয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর একটি তথ্যকেন্দ্রে যে পরিমাণ মেমোরি ব্যবহৃত হচ্ছে, তা লাখ লাখ স্মার্টফোনের র্যামের সমান।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
র্যামের দাম কবে কমবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এসকে হাইনিক্স এবং মাইক্রনের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের কর্তারা মনে করছেন, ২০২৭ সাল পেরিয়ে ২০২৮ বা ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই সংকট বজায় থাকতে পারে। নতুন কারখানা নির্মাণে কয়েক বছর সময় এবং বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়, তাই দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া, এইচবিএম থেকে বেশি মুনাফা পাওয়ায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ের র্যাম উৎপাদনে খুব একটা আগ্রহী নয়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, যদি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজার হঠাৎ ধসে পড়ে, তবেই র্যামের দাম কমতে পারে। অন্যথায়, সাধারণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় এই উচ্চমূল্যেই র্যাম কিনতে হবে।