যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ওয়্যারড-এর প্রযুক্তি সাংবাদিক জুলিয়ান চোক্কাট্টু স্যামসাংয়ের নতুন গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ এবং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রা নিয়ে তাদের পর্যালোচনা তুলে ধরেছেন। দীর্ঘ সাত বছরের গবেষণার পর স্যামসাং তাদের ফোল্ডেবল ফোনের ডিজাইনে বড় পরিবর্তন এনেছে, যা ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও সাবলীল করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। নতুন এই ডিভাইসগুলো মূলত আধুনিক ও ব্যবহারকারী-বান্ধব আকৃতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বাজারে ছাড়া হয়েছে।
ডিজাইন ও ব্যবহারিক দিক
স্যামসাংয়ের নতুন গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ আগের সংস্করণগুলোর তুলনায় কিছুটা খাটো এবং প্রশস্ত। এই পরিবর্তনটি ফোনটিকে হাতে ধরা ও ব্যবহারের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক করে তুলেছে। অন্যদিকে, আল্ট্রা মডেলটি কিছুটা দীর্ঘ ও সরু রাখা হয়েছে, যা প্রথাগত ফোল্ডেবল ফোনের কাছাকাছি। পরীক্ষায় দেখা গেছে, জেড ফোল্ড ৮ এর কব্জা (hinge) খোলা সহজ হওয়ায় ব্যবহারকারীরা বড় স্ক্রিনটি ব্যবহারে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। ডিভাইসটির ভেতরের ৭.৬ ইঞ্চির স্ক্রিনটি এখন ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহারের জন্য আরও উপযুক্ত।
পারফরম্যান্স ও ক্যামেরা
পারফরম্যান্সের দিক থেকে দুটি ফোনেই স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ চিপ ব্যবহার করা হয়েছে, যা গেমিং ও অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে দারুণ গতি দেয়। ব্যাটারি ব্যাকআপের ক্ষেত্রে আল্ট্রা এগিয়ে থাকলেও জেড ফোল্ড ৮-এর ব্যাটারি পারফরম্যান্সও সন্তোষজনক। তবে ক্যামেরার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে; আল্ট্রা মডেলে ২০০ মেগাপিক্সেল সেন্সর ও ৩এক্স অপটিক্যাল জুম সুবিধা থাকলেও, স্ট্যান্ডার্ড ফোল্ড ৮ মডেলে জুম লেন্সের অভাব রয়েছে। উভয় ফোনেই ডিসপ্লের ভাঁজ বা ক্রিজ অনেকটা অস্পষ্ট হয়েছে, যা আগের মডেলগুলোর চেয়ে উন্নত।
সীমাবদ্ধতা
কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে পর্যালোচনায়। দুটি ফোনেরই পেছনের ক্যামেরা বাম্প কিছুটা উঁচু হওয়ায় সমতল স্থানে রাখলে ফোনগুলো ভারসাম্য হারায়। এছাড়া, বেশ চড়া দামের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি একটি বড় বিনিয়োগ। এর পরেও, জেড ফোল্ড ৮ একটি পূর্ণাঙ্গ ট্যাবলেট ও ফোনের সমন্বিত অভিজ্ঞতা প্রদানে সক্ষম, যা এই সিরিজের নতুন যুগের সূচনা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।