যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়ানপ্লাস তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর ২০২৬ সালে নতুন ওয়ানপ্লাস ফোন কেনা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনা চলছে। জুলাই মাসে কোম্পানিটি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার কথা জানায়। যদিও ওয়ানপ্লাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যমান ডিভাইসগুলোর জন্য সফটওয়্যার আপডেট ও বিক্রয়োত্তর সেবা চালু থাকবে, তবে ভবিষ্যতের আপডেট প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।
কেন ক্রেতারা সতর্ক?
ওয়ানপ্লাসের অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল তাদের অক্সিজেন ওএস (OxygenOS)। দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও কোম্পানিটি এখন তাদের সফটওয়্যার ইন্টারফেস হিসেবে অপোর কালার ওএস (ColorOS) ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। ওয়ানপ্লাসের নতুন ডিভাইসগুলোতে অক্সিজেন ওএসের পরিবর্তে কালার ওএস আসার খবরে অনেক ব্যবহারকারী হতাশ। যদিও ওয়ানপ্লাস ও অপো উভয়ই এখন একই কোডবেজ ব্যবহার করে, তবুও ওয়ানপ্লাসের স্বতন্ত্র সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা হারানোর আশঙ্কা করছেন ভক্তরা।
ফ্ল্যাগশিপ পারফরম্যান্স বনাম ঝুঁকি
ওয়ানপ্লাস ১৫ মডেলের ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি লাইফের প্রশংসা করেছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ চিপসেট, ১২০ ওয়াট চার্জিং এবং উজ্জ্বল ওএলইডি ডিসপ্লের কারণে এটি স্যামসাং বা অ্যাপলের ফ্ল্যাগশিপের চেয়ে কম দামে দারুণ অভিজ্ঞতা দেয়। যারা ওয়ানপ্লাসের ইকোসিস্টেমে অভ্যস্ত, তারা চাইলে এখনকার স্টক থেকে ফোন সংগ্রহ করতে পারেন।
ভবিষ্যৎ সেবা
কোম্পানিটি ঘোষণা করেছে, ওয়ানপ্লাস ১৫ এবং ১৫আর মডেলের জন্য তারা চারটি বড় অ্যান্ড্রয়েড ওএস আপডেট এবং ছয় বছরের নিরাপত্তা প্যাচ দেবে। এছাড়া বর্তমান ওয়ারেন্টি প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছে ওয়ানপ্লাস। তাই সফটওয়্যার পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারলে এখনো এই ফোনগুলো ব্যবহারের উপযোগী রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।