যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন সেনাবাহিনী ব্ল্যাক হক ইউএইচ-৬০ হেলিকপ্টার নির্মাণের অংশ হিসেবে লকহিড মার্টিনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিকোরস্কিকে অতিরিক্ত ২৩৪ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই বরাদ্দের ফলে ১৬টি হেলিকপ্টার ক্রয়ের প্রাথমিক চুক্তির মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৫৬ মিলিয়ন ডলারে। এই উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর বর্তমান ব্ল্যাক হক উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং ২০২৭ সালের পর নতুন হেলিকপ্টার সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
চুক্তিটি আংশিক বা অনির্ধারিত (ইউসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যার অর্থ হলো আলোচনার সাপেক্ষে এর চূড়ান্ত আর্থিক মূল্য ও হেলিকপ্টারের সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে। পেন্টাগন চূড়ান্ত চুক্তির অপেক্ষায় না থেকে এই কাঠামোর মাধ্যমে উৎপাদন কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
সিকোরস্কির ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচ বেন্টন জানান, নতুন এই চুক্তি শুধুমাত্র উৎপাদন লাইন সচল রাখবে না, বরং ব্ল্যাক হকের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ভিত্তিও তৈরি করবে। কোম্পানিটি ইতিমধ্যে দীর্ঘমেয়াদী যন্ত্রাংশ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে যাতে উৎপাদনের গতি বজায় থাকে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক ১৬টি হেলিকপ্টার ২০২৮ অর্থবছরের মধ্যে সেনাবাহিনীতে হস্তান্তর করা হবে। আলোচনার পর আগামী তিন থেকে চার বছরে মোট ১৫০টি হেলিকপ্টার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে, যা জাতীয় গার্ড এবং বিদেশি সামরিক বিক্রয় কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হবে। বর্তমানের এই ১৬টি হেলিকপ্টার ২০২৫ ও ২০২৬ অর্থবছরের অবশিষ্ট বরাদ্দ থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বাইডেন প্রশাসনের বাজেট প্রস্তাবে ব্ল্যাক হক ক্রয়ে তহবিলের পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার গুঞ্জন থাকলেও, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে তারা বিদ্যমান বহর থেকে কোনো হেলিকপ্টার বাদ দিচ্ছেন না। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটের সামরিক প্যানেলে হেলিকপ্টার সংগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে, যা চলমান উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে।