যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আইওয়ার গবেষকরা মানুষের মস্তিষ্কের ‘ইনফরমেশন হাব’ বা তথ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফ্রন্টোপ্যারাইটাল কর্টেক্সের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচন করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো কঠিন বা অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে মস্তিষ্ক কীভাবে তার যোগাযোগের কৌশল পরিবর্তন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
মানুষের মস্তিষ্ক ক্রমাগত বিশাল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে থাকে। গাড়ি চালানোর মতো সাধারণ কাজেও মস্তিষ্ককে একই সঙ্গে রুট মনে রাখা, যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক পরিস্থিতির আকস্মিক পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো সামলাতে হয়। এই জটিল প্রক্রিয়ায় ফ্রন্টোপ্যারাইটাল কর্টেক্স একটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের মতো কাজ করে। এটি মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংকেত গ্রহণ করে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য বাছাই করে।
ইউনিভার্সিটি অব আইওয়ার সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড ব্রেইন সায়েন্সেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাই হোয়াং-এর নেতৃত্বে গবেষক দল ৩৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর এই পরীক্ষাটি চালান। তারা কম্পিউটেশনাল মডেলিং এবং এমআরআই স্ক্যান ব্যবহার করে দেখেন যে, ফ্রন্টোপ্যারাইটাল কর্টেক্স কোনো নির্দিষ্ট বা স্থায়ী পদ্ধতিতে অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ করে না। বরং পরিস্থিতির চাহিদামত এটি তার সংযোগ ব্যবস্থা পরিবর্তন করে।
গবেষণা অনুযায়ী, কঠিন পরিস্থিতিতে মস্তিষ্ক শুধু তার সক্রিয়তা বাড়ায় না, বরং কোন সময়ে কোন তথ্যের প্রয়োজন সে অনুযায়ী নির্দিষ্ট অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। এর ফলে অসম্পূর্ণ বা অনিশ্চিত তথ্য থেকেও মস্তিষ্ক একটি সামগ্রিক চিত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়।
গবেষকরা মনে করছেন, তাদের এই ফলাফল মনোযোগের ঘাটতি বা এডিএইচডি (ADHD) এবং সিজোফ্রেনিয়ার মতো মানসিক ব্যাধিগুলো বুঝতে সহায়ক হবে। অনেক সময় এসব সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে বা আচরণের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হিমশিম খান। এই গবেষণার তথ্য সেই জটিলতার কারণ সমাধানে নতুন পথ দেখাতে পারে। জার্নাল অব নিউরোসায়েন্সেস-এ এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।