যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত আইজেনহাওয়ার এক্সিকিউটিভ অফিস বিল্ডিংয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ড্রোন ডমিনেন্স’ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১০০ জন প্রতিনিধি। পেন্টাগনের আন্ডার সেক্রেটারি অব ডিফেন্স ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এমিল মাইকেলসহ ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সম্মেলনে অংশ নেন। ড্রোন প্রযুক্তিতে কেবল সক্ষমতা অর্জন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে আধিপত্য নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সম্মেলনে এমিল মাইকেল উপস্থিত শিল্প উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকার চায় দেশীয় পর্যায়ে ড্রোন উৎপাদন বাড়াতে। এর মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল করে তোলা হবে। তিনি জানান, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ড্রোন উৎপাদন খাতে আরও নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা আসবে, যা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহে দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ
২০২৭ সালের শুরুর দিকে চীন, রাশিয়া, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও উপাদান আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং প্রতিরক্ষা খাতের চাহিদা মেটাতে ট্রাম্প প্রশাসন দেশীয় উৎপাদন লাইনের ওপর জোর দিচ্ছে।
প্রতিরক্ষা কার্যক্রম
২০২৫ সালের জুন মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আনলিশিং আমেরিকান ড্রোন ডমিনেন্স’ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার ১৪ মাস পর এই আয়োজন করা হলো। এর আগে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে ড্রোন উৎপাদন ও ফিল্ডিং ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা দেন।
বর্তমানে পেন্টাগন ‘ড্রোন ডমিনেন্স’ কর্মসূচির আওতায় আগামী দুই বছরে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ছোট ও আক্রমণাত্মক ড্রোন তৈরির প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে গন্টলেট-১ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ১১টি কোম্পানি ২৪ হাজার ৩২০টি আকাশযান তৈরির কার্যাদেশ পেয়েছে। গন্টলেট-২ এর আওতায় আরও ১৯টি কোম্পানি তাদের ড্রোন প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৬০ হাজার প্লাটফর্ম সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।