যুক্তরাষ্ট্রের রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক নতুন এক গবেষণায় জানিয়েছেন যে, সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংযোগ বা সিন্যাপস হারানোর বিষয়টি সুনির্দিষ্ট একটি কাঠামোগত বিন্যাস অনুসরণ করে। এই গবেষণার ফলাফল মলিকুলার সাইকিয়াট্রি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে গবেষকরা জানিয়েছেন যে মস্তিষ্কের বাম অংশ এই ক্ষতির শিকার বেশি হয়।
গবেষণার মূল নেতৃত্বে ছিলেন রুটজার্স রবার্ট উড জনসন মেডিকেল স্কুলের মনোরোগবিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক আব্রাম হোমস এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা ও রেডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজীব রাধাকৃষ্ণন। গবেষণার প্রধান লেখক সিদ্ধান্ত চোপড়া বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।
সিন্যাপস হলো মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যকার ক্ষুদ্র সংযোগস্থল, যা একে অপরের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান করে। সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই সংযোগগুলোর ক্ষতি হওয়ার ফলে আবেগ ও চিন্তাশক্তি সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেয়। গবেষকরা ১২২ জন মানুষের ওপর বিশেষায়িত পজিট্রন এমিশন টমোগ্রাফি (পিইটি) ইমেজিং চালিয়ে এই তথ্য পেয়েছেন। এর মধ্যে ২৯ জনের সিজোফ্রেনিয়া শনাক্ত করা হয়েছিল।
গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ মানুষের তুলনায় সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তদের মস্তিষ্কের সামনের অংশ, টেম্পোরাল অঞ্চল এবং স্মৃতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের এলাকাগুলোতে ব্যাপকভাবে সিন্যাপসের সংযোগ হ্রাস পেয়েছে। এই ক্ষতি মস্তিষ্কের বাম দিকে তুলনামূলকভাবে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।
গবেষকদের মতে, মস্তিষ্কের যেসব অঞ্চলে সেরেটোনিন, গাবা এবং গ্লুটামেট-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটারের রিসেপ্টর বেশি থাকে, সেখানেই ক্ষতির মাত্রা বেশি। কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে গবেষকরা দেখেছেন যে, মস্তিষ্কের বাম ললাট বা ফ্রন্টাল লোব থেকেই সম্ভবত এই সিন্যাপটিক ক্ষতি শুরু হয় এবং সেখান থেকে তা অন্যান্য সংযুক্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
সিদ্ধান্ত চোপড়া জানান, এই স্নায়বিক ক্ষতি এলোমেলো নয়, বরং মস্তিষ্কের আণবিক ও যোগাযোগ কাঠামোর সাথে সম্পর্কিত। এই আবিষ্কারের ফলে ভবিষ্যতে সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা রক্ষা বা পুনরুদ্ধারের জন্য সুনির্দিষ্ট থেরাপি তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।