বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ প্রস্তাব ও এর শর্তাবলি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। আইএমএফের ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আপাতত পিছু হটার ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, এই মুহূর্তে সরকার ঋণটি নিচ্ছে না।
আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে নয়দিনের সফরে ঢাকায় অবস্থান করছে। তারা ঋণ বিষয়ে রাজস্ব বোর্ড ও অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভর্তুকি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেছে। সফর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মিশনটি তাদের কার্যক্রম শেষ করবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণ পাওয়ার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়নি বা নেওয়া হয়নি। দেশের প্রয়োজন হলে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা পায় এমন উপায়েই ঋণ নেওয়া হবে।
আইএমএফের ঋণের অন্যতম শর্ত হলো জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও সারে ভর্তুকি প্রত্যাহার করা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৮২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ রেখেছে, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ২৩.৮ শতাংশ বেশি। আইএমএফের মতে, এত বড় অঙ্কের ভর্তুকি বজায় রেখে রাজস্ব ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন। সংস্থাটি ভর্তুকির পরিবর্তে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
সরকার জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ে আগ্রহী হলেও সার থেকে ভর্তুকি তুলে নিতে অনিচ্ছুক। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে সারের দাম আকাশচুম্বী। এই অবস্থায় ভর্তুকি প্রত্যাহার করা হলে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত জুন মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭.৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বেশ কিছু কৃচ্ছ্রসাধন পদক্ষেপ নিয়েছে, যা রিজার্ভের ওপর চাপ কমাবে। ১৩ জুলাই পর্যন্ত রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৯.৮ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। তবে আইএমএফের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ গণনার পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। আইএমএফ নিট রিজার্ভ গণনার পক্ষে থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের প্রচলিত পদ্ধতিতেই অনড় রয়েছে।