বাংলাদেশের কক্সবাজারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে লবণের নতুন মৌসুম শুরুর আগেই দেড় লাখ টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। লবণের সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলার সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কর্মকর্তারা। তবে এ সিদ্ধান্তের কারণে লবণের বাজারদর কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লবণচাষিরা।
বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে পরিশোধিত লবণের চাহিদা ২১ লাখ টন। বর্তমানে মাঠ ও মিল পর্যায়ে মিলিয়ে প্রায় ৬ লাখ ৬৭ হাজার টন লবণ মজুত রয়েছে। বিসিকের দাবি, প্রতি মাসে গড়ে ২ লাখ ২০ হাজার টন লবণের চাহিদার বিপরীতে এই মজুত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে। গত মৌসুমে উৎপাদন কম হওয়ার অভিজ্ঞতায় নতুন মৌসুম শুরুর আগে ২০ থেকে ২৫ দিনের সম্ভাব্য ঘাটতি এড়াতে এই আমদানির সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে লবণচাষি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ জে এম সিয়াম জানান, কয়েক মাস লোকসানের পর চাষিরা বর্তমানে মণপ্রতি ৩৮০ টাকায় লবণ বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন। এই সময়ে আমদানি শুরু হলে দাম আবারও কমে যাবে, যা প্রান্তিক চাষিদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে। মিল মালিকদের একটি অংশের তদবিরে এই আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ২৪৪টি সাধারণ মিলকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টন এবং সাতটি ভ্যাকুয়াম মিলকে ১৭ হাজার ৫০০ টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮৬টি মিল গত এক বছরের বেশি সময় ধরে কোনো লবণ উৎপাদন করেনি। লবণের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানির অনুমতিপত্র কেনাবেচা ঠেকাতে নিবন্ধন বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিসিক।