ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে বনভূমি ও ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে, যেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজারো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। প্রবল দাবদাহ ও তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা গত ২০ বছরের মধ্যে ইউরোপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দাবানলের ঘটনার রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
ইতালির পরিস্থিতি
সিসিলি দ্বীপে কয়েক দিন ধরে দাবানল জ্বলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছয় হাজার ফায়ার সার্ভিস কর্মী, বনরক্ষী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা কাজ করছেন। আগুন নেভানোর সময় অসুস্থ হয়ে একজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া কালাব্রিয়া অঞ্চলে ১৬০টির বেশি দাবানল সক্রিয় রয়েছে।
ফ্রান্সের চিত্র
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের লে পর্জ এলাকায় গত বুধবার থেকে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে দাবানল নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। একই এলাকায় পাইনবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ১০ হাজারের বেশি পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্পেনের সংকট
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে বড় ধরনের দাবানল নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চলছে। তবে গুয়াদালাহারা প্রদেশে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, যেখানে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর এলাকা ইতিমধ্যে পুড়ে গেছে। সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত ফায়ার সার্ভিস কর্মী কাজ করে যাচ্ছেন।
ইউরোপীয় স্যাটেলাইট ব্যবস্থা ইএফএফআইএসের তথ্যমতে, দক্ষিণ ইউরোপের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। এখনো গ্রীষ্মের অর্ধেক সময় বাকি থাকতে যেভাবে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে, তা নজিরবিহীন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।