যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানে আরও বড় পরিসরে সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, এই সম্ভাব্য অভিযানটি আগে চালানো ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চেয়েও বড় হতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
হামলার সম্ভাব্য পরিণতি ও সিদ্ধান্ত
ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, এমন সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব থাকতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং কখন নেবেন সে বিষয়েও কিছু স্পষ্ট করেননি। এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের দুইজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনীকে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছেন এবং প্রস্তুতির কাজ শেষ করেছেন।
ইসরায়েলের ভূমিকা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি চাইলে ইসরায়েল দুই মিনিটের মধ্যে এ অভিযানে যোগ দিতে পারবে, তবে ইরানের বিরুদ্ধে এককভাবে লড়তে যুক্তরাষ্ট্র সক্ষম। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল যদি এ ঘটনায় অংশ নেয়, তবে তাদেরও পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে, কারণ ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান বর্তমানে কোনো চুক্তিতে প্রস্তুত নয় কারণ তারা এখনো পর্যাপ্ত মূল্য চোকাতে রাজি হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গত ১২ দিনে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হামলা জোরদার করেছে। এদিকে, ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জাহাজে হামলা শুরু করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লোহিত সাগরে হুতিরা আবারও হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র এর দায়ভার সরাসরি ইরানের ওপর চাপাবে এবং হুতিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।