ঢাকাWednesday , 29 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

সলমান রুশদির ওপর হামলা: মস্তিস্কের মিলিমিটার দূরত্বে ছিল ঘাতকের ছুরি

International Desk
July 24, 2026 10:15 am
Link Copied!

বিখ্যাত লেখক সলমান রুশদি তার ওপর চালানো ভয়াবহ হামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রথমবারের মতো সাক্ষ্য দিয়েছেন। নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে তিনি বর্ণনা করেছেন কীভাবে ঘাতকের ছুরি তার মস্তিষ্কের মাত্র এক মিলিমিটার দূর দিয়ে চলে গিয়েছিল, যা তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে।

সংক্ষেপে যা জানা গেছে

  • ২০২২ সালে নিউ ইয়র্কের এক সাহিত্য অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় সলমান রুশদির ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালানো হয়।
  • হামলায় লেখক তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান এবং একটি হাত স্থায়ীভাবে অকেজো হয়ে যায়।
  • আক্রমণকারী হাদি মাতার বর্তমানে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।
  • রুশদি আদালতে তার জবানবন্দিতে জানান, ঘাতকের উদ্দেশ্য ছিল তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

সাক্ষ্য প্রদানের সময় সলমান রুশদি সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের বর্ণনা দেন যখন তাকে মঞ্চে পেছন থেকে আক্রমণ করা হয়েছিল। তিনি জানান, আক্রমণকারী অত্যন্ত ক্ষিপ্র গতিতে তাকে ছুরিকাঘাত করতে শুরু করে। রুশদির ভাষ্যমতে, ছুরির আঘাতটি এতই গভীরে ছিল যে তা তার মস্তিষ্কের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল, যা তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছিল। দীর্ঘ চিকিৎসা ও শারীরিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরও রুশদি তার সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন এবং বিচার প্রক্রিয়ায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের জবানবন্দি দিয়েছেন।

হামলাকারী হাদি মাতার আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার না করলেও, তদন্তকারী সংস্থাগুলো একে একটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে গণ্য করছে। রুশদির ওপর এই হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে বাকস্বাধীনতা ও লেখক নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে লেখক সুস্থ হয়ে উঠলেও এই ঘটনা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিশ্লেষণ

সলমান রুশদির ওপর এই হামলা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং এটি বাকস্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার ওপর একটি সরাসরি আক্রমণ। ১৯৮৯ সালে তার লেখা ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন মহলের রোষানলে পড়েন এবং বছরের পর বছর আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন। এই বিচারিক প্রক্রিয়াটি বিশ্বজুড়ে লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় বার্তা বহন করছে।

আদালতে রুশদির উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ভীতি প্রদর্শন করে কোনো লেখকের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করা সম্ভব নয়। তবে এই ঘটনা একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উগ্রবাদ ও মতাদর্শগত অসহিষ্ণুতার চিত্রকেও ফুটিয়ে তুলেছে। হাদি মাতারের বিচার শুধু রুশদির ন্যায়বিচারের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি মুক্তমনাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি আইনি নজির হিসেবেও কাজ করবে।

সূত্র: news.sky.com