বাংলাদেশের হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি। মঙ্গলবার রাতে এনসিপির পক্ষ থেকে এক জরুরি সাংগঠনিক নির্দেশনায় এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এই হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করেছে দলটি।
মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহর সার্কিট হাউসের দিকে রওনা হলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরবর্তীতে সারজিস আলমের গাড়িটি শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নিলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরে রাত আটটার দিকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
এনসিপির অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা অতর্কিতভাবে তাদের গাড়িবহরের ওপর হামলা চালায়। হামলায় এনসিপির মিডিয়া টিমের সদস্য, চালক ও বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া হামলার সময় এনসিপির গাড়িবহর ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
দলীয় নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এনসিপির সব মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা শাখাকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে ছাত্রদলের জেলা সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান দাবি করেছেন, সমাবেশে এনসিপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়।