বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার টামটল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতিহা তার নিজ জেলার নামকরণের ইতিহাস জানতে তার দাদার শরণাপন্ন হয়েছে। বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইংরেজি পাঠ্যবইয়ের ‘মাই হোম ডিস্ট্রিক্ট’ অধ্যায়ের এই আলোচনাটি কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পটভূমি ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বোঝার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ফাতিহার দাদাকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, ষষ্ঠ শতাব্দীতে নন্দকিশোর প্রামাণিক বা ব্রজকিশোর প্রামাণিক নামের একজন জমিদার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে একটি ‘গঞ্জ’ বা ব্যবসায়িক কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। মূলত সেই ‘কিশোর’ এবং ‘গঞ্জ’ শব্দ দুটি থেকেই অঞ্চলটির নাম কিশোরগঞ্জ হয়েছে বলে অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন।
ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
কিশোরগঞ্জ বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি বড় জেলা, যার আয়তন ২,৬৮৮ বর্গকিলোমিটার। জেলাটিতে ৮টি পৌরসভা ও ১৩টি উপজেলা রয়েছে। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, কালনী, সুতি ও নরসুন্দাসহ বেশ কয়েকটি নদ-নদী এই জেলার বুক চিরে প্রবাহিত হয়েছে। বিশেষ করে নরসুন্দা নদীটি কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে।
বাংলা লোকসাহিত্যের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যে এই জেলার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’র অধিকাংশ গান এই ভূমিতেই রচিত। এছাড়া বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতী, শিশুসাহিত্যের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব উপেন্দ্রকিশোর রায় ও সুকুমার রায় এবং বিখ্যাত চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিনের জন্মস্থানও এই কিশোরগঞ্জ।
শিক্ষার্থীদের জন্য দিকনির্দেশনা
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের প্রভাষক ইকবাল খানের মতে, পাঠ্যবইয়ের এই অংশটি শিক্ষার্থীদের শব্দভাণ্ডার বাড়াতে ও তথ্যভিত্তিক জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করবে। পাঠ্যবইয়ে প্রদত্ত কলাম মেলানো এবং শব্দার্থ চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও শাণিত করতে পারবে।