যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজের মাধ্যমে দৈনন্দিন খরচের জোগান এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শিক্ষার্থী ভিসার শর্ত অনুযায়ী দেশভেদে কাজের সময়সীমা ও সম্ভাব্য আয়ের হার তুলে ধরা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের আর্থিক পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়ক।
বিভিন্ন দেশের কাজের নিয়ম
শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ মূলত নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের স্টুডেন্ট ভিসার শর্তের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করা যায়, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসের ভেতরে সীমাবদ্ধ। যুক্তরাজ্যে ক্লাস চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজের সুযোগ থাকলেও ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজ করা সম্ভব। কানাডায় ক্লাস চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা ক্যাম্পাসের বাইরে কাজের অনুমতি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সময় দুই সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করা যায়, তবে সরকারি ছুটিতে এই বাধ্যবাধকতা থাকে না। জার্মানিতে বছরে সর্বোচ্চ ১৪০ পূর্ণ দিন বা ২৮০ অর্ধদিবস কাজের অনুমতি দেওয়া হয়।
আয়ের ধরন ও সুযোগ
যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রি বা হসপিটালিটি খাতে ঘণ্টায় ১১ থেকে ১৪ পাউন্ড আয় করা সম্ভব, তবে টিউশনির মাধ্যমে দক্ষ শিক্ষার্থীরা ঘণ্টায় ১৫ থেকে ৩০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করতে পারেন। কানাডায় সাধারণ কাজে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ১৮ কানাডীয় ডলার আয় করা গেলেও, শিক্ষক বা গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করলে তা ২৫ থেকে ৪০ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত হতে পারে। অস্ট্রেলিয়াতে খুচরা ও হসপিটালিটি খাতে ঘণ্টায় ২৭ থেকে ৩০ অস্ট্রেলীয় ডলার এবং টিউশনির মাধ্যমে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫০ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত উপার্জনের সুযোগ রয়েছে।
সতর্কতা
বিদেশে যাওয়ার আগে কেবল খণ্ডকালীন চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর করে আর্থিক পরিকল্পনা করা উচিত নয় বলে প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত বাজার-সদাই, যাতায়াত ও ব্যক্তিগত ছোটখাটো খরচ মেটাতেই এই আয় ভূমিকা রাখে। টিউশন ফি ও বড় ধরনের বাসাভাড়ার মতো খরচ মেটাতে পরিবারের সহায়তার প্রয়োজন হয় বলে তথ্য এসেছে প্রতিবেদনে।