বাংলাদেশের ঢাকায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১০ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিপন্ন প্রাণীদের আবাসস্থল সংরক্ষণের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করাই এই কমিশনের মূল লক্ষ্য।
কমিশনের গঠন ও দায়িত্ব
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান বন সংরক্ষক, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আশরাফুল হক নোবেল, আইইউসিএন-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান এবং গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি অফিসার ড. হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইন।
কাজের পরিধি
কমিশনটি বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি, অবৈধভাবে দখলকৃত বনাঞ্চল উদ্ধার এবং বনের জমি পুনরুদ্ধারে সুপারিশ করবে। সুন্দরবনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারকে পরামর্শ দেবে এই কমিশন। এছাড়া বন্যপ্রাণীর খাদ্য নিশ্চিত করতে বনভূমিতে ফলজ গাছ লাগানো এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
কার্যপদ্ধতি
সরকার প্রয়োজনে এই কমিশনে অতিরিক্ত সদস্য বা বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কমিশনকে প্রতি ছয় মাসে অন্তত একটি সভা করতে হবে। এছাড়া সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় বিশেষ সভা আহ্বান করা যাবে। কমিশন তাদের নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি সরকার কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য দায়িত্বও পালন করবে।