যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর সর্বকালের কঠোরতম আর্থিক আক্রমণ পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন। একে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের সাথে সব ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া, তেহরানের সাথে কোনো দেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বজায় রাখলে তাদেরও বৈশ্বিক বিচ্ছিন্নতার সম্মুখীন হতে হবে।
অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট শিরোনামে এই আক্রমণের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্কগুলো ধ্বংস করা। ট্রেজারি বিভাগ ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, এভিয়েশন এবং শিপিং—এই পাঁচটি খাতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি এবং জাহাজের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বেসেন্ট আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের সাথে সরাসরি কথা বলে ইরানকে দেওয়া সমর্থন বন্ধের আহ্বান জানাবেন। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের আয়ের সব পথ বন্ধ করে দিতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হুমকি দিয়েছে যে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেবে। এই প্রণালীটি বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের পথ হিসেবে পরিচিত, যা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই সংঘাতের প্রভাব স্পষ্ট। দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম গ্যালন প্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর হস্তক্ষেপে নমনীয় হয়েছিল। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।