যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট কোস্টে বার্ডফাই নেস্ট ডুও নামক একটি স্মার্ট নেস্টিং বক্স ব্যবহার করে পাখিদের প্রজনন ও জীবনচক্রের খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষক ক্যাট মার্ক। তিনি জানান, এই স্মার্ট বক্সের মাধ্যমে তিনি তার বাড়ির আঙিনায় আসা ব্ল্যাক-ক্যাপড চিক্যাডি পাখিদের বাসা তৈরি থেকে শুরু করে ডিম পাড়া ও ছানা বড় হওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি নিজের ফোনে সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়েছেন। প্রকৃতির এই সরাসরি দৃশ্য অবলোকন করা তার জন্য একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা ছিল।
ডিভাইসটির কার্যকারিতা
বার্ডফাই নেস্ট ডুওতে রয়েছে ১০৮০ পিক্সেল এইচডি রেজোলিউশনের দুটি ক্যামেরা। এর একটি ক্যামেরা নেস্টিং বক্সের ভেতরে এবং অন্যটি বাইরের দিকে বসানো। ডিভাইসে থাকা বিল্ট-ইন থার্মোমিটার ও হাইগ্রোমিটারের মাধ্যমে বাসার তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা সম্পর্কেও রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া যায়। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারী খুব সহজেই বাসার ভেতরের ও বাইরের ভিডিও দেখতে পারেন, যা পরবর্তী সময়ে শেয়ারও করা যায়।
সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
ক্যাট মার্কের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এই ডিভাইসের মাধ্যমে পাখিদের খাদ্যাভ্যাস এবং তাদের বাসার যত্নের বিষয়টি খুব কাছ থেকে দেখা সম্ভব। তবে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ডিভাইসটির কালো রঙের বহির্ভাগ প্রচুর তাপ শোষণ করে, যা তীব্র গরমের সময় পাখিদের ছানাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এছাড়াও অ্যাপের স্বয়ংক্রিয় শ্রেণিবিন্যাস অনেক সময় সঠিক তথ্য দেয় না এবং ক্যামেরা সব সময় সব ঘটনা ধারণ করতে পারে না।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
সাধারণত নেস্টিং বক্সের ভেতরের ঘটনা অজানাই থেকে যায়। এই স্মার্ট বক্সটি ব্যবহারের ফলে পাখিদের জীবনধারা সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানা সম্ভব হয়েছে। যেমন, মা পাখি কেন ছানাদের মাকড়সা খাওয়ায় অথবা কীভাবে তারা বাসার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে। এই প্রযুক্তিটি পাখি প্রেমী ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।