যুক্তরাজ্যে নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য চাকরির সুযোগ গত এক বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অ্যাডজুনা নামের একটি চাকরির ওয়েবসাইটের জরিপে উঠে এসেছে, জুলাই মাসে সেখানে গ্র্যাজুয়েটদের জন্য মাত্র ৮,৩৮৩টি শূন্যপদ ছিল, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৫,৩৯৭টি। নিয়োগকর্তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়া এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামলাতে এন্ট্রি-লেভেলের নিয়োগ কমিয়ে দেওয়ায় চাকরির এই সংকট তৈরি হয়েছে। ২০১৬ সালে অ্যাডজুনা তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর এটিই সবচেয়ে কম চাকরির পরিসংখ্যান।
অ্যাডজুনার সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রু হান্টার জানান, নিয়োগকর্তারা এখনও নতুন গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগের ক্ষেত্রে উৎসাহী নন। অন্যদিকে, গ্র্যাজুয়েট চাকরির বাজার বিশেষজ্ঞ চার্লি বল মনে করেন, এই তথ্যগুলো পরিস্থিতির সম্পূর্ণ চিত্র তুলে না-ও ধরতে পারে। তাঁর মতে, হয়তো কোম্পানিগুলো সরাসরি ‘গ্র্যাজুয়েটদের জন্য’ বলে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে না, তবে পদগুলো বিদ্যমান থাকছে যা শেষ পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েটরাই পূরণ করছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির বাজার বর্তমানে বেশ দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে চাকরির জন্য প্রতিযোগিতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই মাসে প্রতি শূন্যপদের বিপরীতে গড়ে ২.১৪ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন, যা এক বছর আগে ছিল ১.৯৩ জন। দেশটির তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ১৬.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা তরুণের (নিট) সংখ্যা এখন ১০ লাখ ছাড়িয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় কর্মসংস্থান বাড়লেও তরুণদের চাকরির সুযোগ কমে আসা একটি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় সাবেক মন্ত্রী অ্যালান মিলবার্ন যুব বেকারত্ব নিয়ে একটি পর্যালোচনা পরিচালনা করছেন। এদিকে সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ডের প্যাকেজ হাতে নিয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ মানুষের শিক্ষা ও আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।