এস্তোনিয়ার তার্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোমিক্স ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জানিয়েছেন, মানুষ যেসব ওষুধ সেবন করেন তা বন্ধ করার অনেক বছর পরও তা পরিপাকতন্ত্রে থাকা অণুজীবের ওপর দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন রেখে যেতে পারে। গবেষক দলের প্রধান ড. অলিভার আসমেতস জানান, একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও রোগব্যাধির সঙ্গে পরিপাকতন্ত্রের অণুজীবের সম্পর্ক নির্ণয়ের সময় শুধু বর্তমানের ওষুধ সেবনের ইতিহাস নয়, বরং অতীতের ওষুধ সেবনের ইতিহাসও বিবেচনায় নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
গবেষণায় এস্তোনিয়ান বায়োব্যাংকের আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষের মল নমুনা এবং প্রেসক্রিপশনের রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, অ্যান্টিবায়োটিকের পাশাপাশি অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, বিটা-ব্লকার, বুক জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিডিটি কমানোর ওষুধ এবং বেনজোডিয়াজেপিনের মতো সাধারণ ওষুধগুলো অণুজীবের গঠনে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন ঘটায়।
সাধারণত চিকিৎসাবিজ্ঞানে অণুজীবের ওপর প্রভাব ফেলতে অ্যান্টিবায়োটিককে দায়ী করা হলেও, এই গবেষণায় দেখা গেছে উদ্বেগ কমানোর জন্য ব্যবহৃত বেনজোডিয়াজেপিনের প্রভাবও যথেষ্ট শক্তিশালী। এটি পরিপাকতন্ত্রের অণুজীবের ওপর অনেকটা ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিকের মতোই প্রভাব ফেলে।
গবেষণাটির গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক এলিন অর্গ বলেন, ওষুধ সেবনের ইতিহাস অণুজীব সংক্রান্ত তথ্যের বিশ্লেষণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত। তার মতে, অতীতের চিকিৎসা পদ্ধতি শরীরের অণুজীবের ওপর এমন ছাপ ফেলে যা বহু বছর পরেও শনাক্ত করা সম্ভব।
গবেষকরা আরও লক্ষ্য করেছেন যে, একই শ্রেণির ওষুধ হওয়া সত্ত্বেও সেগুলো ভিন্ন ভিন্নভাবে অণুজীবের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তাই ভবিষ্যতে অণুজীব সংক্রান্ত গবেষণায় প্রতিটি ওষুধের আলাদা প্রভাব বিবেচনা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।