যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবার এলাকায় এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ নকশা পর্যালোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির নির্বাহী জিল আলবারটেলি জানিয়েছেন, এই মাইলফলক অর্জনের মাধ্যমে পরবর্তী পর্যায়ের পরীক্ষা এবং উৎপাদনে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।
প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির সামরিক ইঞ্জিন বিভাগের প্রেসিডেন্ট জিল আলবারটেলি জানান, এই নকশাটি অত্যন্ত মজবুত এবং এটি বিমানের এয়ারফ্রেমের সাথে কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। এভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশনের এক সম্মেলনে তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে শিল্পের সক্ষমতা অনুযায়ী সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এফ-৩৫ বিমানের এফ১৩৫ ইঞ্জিনের জন্য এই উন্নয়নকে ‘ইঞ্জিন কোর আপগ্রেড’ বা ইসিইউ (ECU) বলা হচ্ছে। এটি মূলত একটি ঝুঁকি হ্রাসকারী নকশা পর্যালোচনা, যা পেন্টাগনের মানদণ্ড অনুযায়ী সিস্টেমটির প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। বর্তমানে এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে এখন ইঞ্জিনটি পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। যদিও নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি, তবে বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৭ সালে এর গ্রাউন্ড টেস্টিং এবং ২০৩০ সাল নাগাদ ফ্লাইট টেস্টিং শুরু হতে পারে। ইসিইউ উৎপাদনের কাজ ২০৩১ সালের আগে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই আপগ্রেডের ফলে ইঞ্জিনের থ্রাস্ট এবং জ্বালানি দক্ষতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এটি বিমানের আয়ু বাড়াতে এবং ব্লক ৪ নামে পরিচিত পরবর্তী পর্যায়ের আপগ্রেডগুলোতে সহায়তা করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ কয়েক বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে পেন্টাগন এই প্রকল্পের জন্য কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সম্পাদন করেছে, যা বিদ্যমান এফ-৩৫ বহরেও সংযোজন করা হবে।