ঢাকাWednesday , 16 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে বাড়ছে জনরোষ


September 16, 2026 3:15 pm
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য স্থাপিত ডেটা সেন্টারগুলো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এআই প্রযুক্তির ওপর মানুষের অস্তিত্ব সংকটের যে আশঙ্কা রয়েছে, তার বাইরেও ডেটা সেন্টারের উচ্চ বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদা এবং পরিবেশগত প্রভাব এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেটা সেন্টারগুলোর নীরব যান্ত্রিক গুঞ্জন স্থানীয় পর্যায়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্রেটিক সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে সাময়িক স্থগিতাদেশের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার, বিদ্যুতের উচ্চ মূল্য এবং পানির ব্যবহারে স্থানীয়দের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে জনগণ উদ্বিগ্ন। গ্যালাপের এক জরিপ অনুযায়ী, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চেয়েও সাধারণ মানুষ এলাকায় ডেটা সেন্টার স্থাপনের বিপক্ষে বেশি সোচ্চার।

যুক্তরাজ্যেও একই ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। পূর্ব লন্ডনের ব্রিক লেন থেকে শুরু করে বাকিংহামশায়ার পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ডেটা সেন্টারের বিস্তারের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অনেকে মনে করছেন, স্থানীয় আবাসন বা ছোট ব্যবসার সুযোগ নষ্ট করে ডেটা সেন্টার স্থাপনের চেয়ে এর অন্য ব্যবহার বেশি জরুরি। বর্তমানে যুক্তরাজ্য বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ ডেটা সেন্টারের মালিক, যা চীনের চেয়েও বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এই ইস্যু এখন বড় আকার ধারণ করেছে। নিউ জার্সি এবং ভার্জিনিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে বিদ্যুৎ বিলের ঊর্ধ্বগতির কারণে ডেটা সেন্টার বিরোধী মনোভাবের জেরে অনেক রাজনৈতিক পরিবর্তনও দেখা গেছে। টেক্সাসের মতো শিল্পবান্ধব রাজ্যেও এখন ডেটা সেন্টারের কর সুবিধা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের মতো নেতারা প্রকাশ্যে ডেটা সেন্টার ও এর প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা নিয়ে সমালোচনায় নেমেছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার ডেটা সেন্টারগুলোকে ‘ক্রিটিক্যাল ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ বা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করেছে। সরকারের মতে, জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য এটি অপরিহার্য। তবে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশগত ছাড়পত্রের অভাব এবং পানির চাহিদার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আইনগত লড়াই ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, এআই খাতের প্রসারের নামে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা ও সম্পদের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা টেকসই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।