বাংলাদেশের সাভারে অবস্থিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ শনিবার সকালে শত শত লোক নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে ভাঙচুর, সিসিটিভি ক্যামেরা ও গাড়ি ক্ষতিসাধন এবং নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে, যা পুরো এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও ট্রাস্টি বোর্ডের অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের একটি আদেশের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন বহিরাগত নিয়ে জোরপূর্বক ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (ভূমি প্রশাসন) মোহাম্মদ আবদুস সালাম জানান, সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বহিরাগতরা গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসে ঢুকে গাড়ি ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এ সময় এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরও করা হয়।
ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন শিরীন হকের দাবি, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকেই ডা. নাজিমউদ্দিন প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে অনিয়ম করছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ তছরুপের অভিযোগ তোলেন এবং জানান, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই তিনি ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করছেন।
ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য
নিজেকে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ও পূর্ণ স্বত্বাধিকারী দাবি করে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ। তার ভাষ্যমতে, আদালতের ৫ জুলাইয়ের আদেশের ভিত্তিতে ১৯৭২ ও ১৯৮০ সালের মূল দলিল অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন। ক্যাম্পাসে ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি জানান, তার লোকজন সেখানে প্রবেশ করেনি, বরং বর্তমান কর্তৃপক্ষ নিজেরাই ভাঙচুর চালিয়ে তার ওপর দোষ চাপাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রোগীদের চিকিৎসাসেবার খরচ কমানোর লক্ষ্যেই তিনি দায়িত্ব বুঝে নিতে এসেছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, ডা. নাজিমউদ্দিন দলবল নিয়ে ক্যাম্পাসে এলেও দুপুরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তিনি এলাকা ত্যাগ করেন। ওসি নিশ্চিত করেছেন যে, ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিটে সিসিটিভি ক্যামেরা ও দুটি কাচ ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত মামলা দায়ের করেনি।