যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক বলেছেন, এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় ভবিষ্যতে ‘কিল সুইচ’ বা জরুরি অবস্থায় প্রযুক্তিটি বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ক্লার্কের মতে, এআই যদি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, তবে তা পুরোপুরি বন্ধ করার একটি উপায় থাকা জরুরি এবং এ বিষয়ে আইনি নীতিমালা তৈরি করা আবশ্যক।
বর্তমানে অ্যানথ্রপিকসহ অধিকাংশ এআই ল্যাবে প্রযুক্তিটি বন্ধ করার নিজস্ব ব্যবস্থা রয়েছে। তবে জ্যাক ক্লার্কের দাবি, এটি কেবল প্রতিষ্ঠানের ওপর ছেড়ে না দিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ও তৃতীয় কোনো পক্ষের দ্বারা যাচাইযোগ্য হওয়া উচিত।
এআই খাতের ঝুঁকি নিয়ে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষক ইভান হুবিঙ্গার এর আগে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, আগামী দশকে এআইয়ের কারণে মানবজাতি বিলুপ্ত হওয়ার ১০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। নোবেল বিজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী জিওফ্রে হিন্টনও এই ঝুঁকিকে উড়িয়ে দেননি। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এআই যদি ইন্টারনেটের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তবে তা মানুষের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে এই শঙ্কার বিপরীতে ভিন্নমতও রয়েছে। গ্রিন্ডারের প্রধান জর্জ আরিসনসহ অনেকে মনে করেন, এআই নিয়ে এই আতঙ্ক মূলত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য হাসিল ও বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি কৌশল মাত্র। তাদের মতে, এআই শিল্পে বড় বিনিয়োগ টিকিয়ে রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম ভীতির সৃষ্টি করছে।
মার্কিন আইনপ্রণেতারা ইতোমধ্যে ‘কিল সুইচ অ্যাক্ট’ নামে একটি খসড়া আইন প্রস্তাব করেছেন, যার আওতায় বিপজ্জনক এআই টুল বন্ধ করার ক্ষমতা সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে থাকবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে এআই নিয়ে ভীতিকে ‘ষড়যন্ত্র’ ও ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন। যুক্তরাজ্যের সরকারও বর্তমানে এমন কোনো ‘কিল সুইচ’ ব্যবস্থার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ তাদের মতে এটি প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে পারবে না।
অ্যানথ্রপিকসহ প্রধান এআই কোম্পানিগুলো স্বীকার করেছে যে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্টগুলো অনেক সময় অপ্রত্যাশিত আচরণ করে। জ্যাক ক্লার্ক মনে করেন, এআই শিল্পকে সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত ছেড়ে দেওয়া একটি বিশাল ঝুঁকি, যা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে।