যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে অবস্থিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন-এর গবেষকরা তরুণদের মধ্যে ক্যান্সারের ক্রমবর্ধমান হার নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন প্রজন্মের মানুষের শারীরিক বয়স তাদের কালানুক্রমিক বা প্রকৃত বয়সের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে, যা তাদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। নেচার মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি এবং সাইটম্যান ক্যান্সার সেন্টারের গবেষকরা।
সাধারণত ক্যান্সারকে বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত রোগ হিসেবে ধরা হয়, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে কোষে জমা হওয়া ক্ষতিকর প্রভাব টিউমার সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৫৫ বছর বা তার কম বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ক্যান্সারের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষকরা বলছেন, শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, বিপাক প্রক্রিয়া এবং কোষের পরিবর্তন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমান প্রজন্মের শরীর পূর্ববর্তী প্রজন্মের তুলনায় দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যে ব্যক্তিদের শারীরিক বয়স এবং প্রকৃত বয়সের মধ্যে পার্থক্য বেশি, তাদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকিও অনেক বেশি। বিশেষ করে ফুসফুস, পরিপাকতন্ত্র, জরায়ু এবং মলাশয়ের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এই যোগসূত্রটি স্পষ্ট। গবেষক দলের প্রধান এবং মলিকুলার এপিডেমিওলজিস্ট ড. ইইন কাও জানান, শরীরের অকাল বার্ধক্য শনাক্ত করা গেলে তরুণদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি আগেভাগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
গবেষক দলটি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের দেড় লাখের বেশি তরুণ-তরুণীর স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তারা দেখেছেন, ১৯৮০ বা ১৯৯০-এর দশকে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শারীরিক বয়স দ্রুত বৃদ্ধির প্রবণতা আগের প্রজন্মের চেয়ে অনেক বেশি। ডায়েট, স্থূলতা, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং জীবনযাত্রার বিভিন্ন অভ্যাসের সংমিশ্রণ এই অকাল বার্ধক্যের পেছনে দায়ী থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা এখন দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনগুলো কীভাবে শরীরের ওপর স্থায়ী ছাপ ফেলে, তা নিয়ে কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য হলো, রোগ হওয়ার আগেই উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পথ প্রশস্ত করা।