যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন বিমানবাহিনী বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমানের রাডার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ৭৬৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের দুটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, পুরনো এই বোমারু বিমানগুলোকে দশকের পর দশক সচল রাখার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চুক্তির আওতায় রেথিয়ন কোম্পানিকে রাডার উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সর্বোচ্চ ৬০৩ মিলিয়ন ডলারের কাজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বোয়িং কোম্পানিকে প্রায় ১৬৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বি-৫২ বিমানের বম্ব র্যাক আধুনিকায়নের কিট সরবরাহ করবে। এই কাজগুলো মূলত বিমানবাহিনীর ‘রাডার মডার্নাইজেশন প্রোগ্রাম’ (আরএমপি)-এর আওতায় সম্পন্ন হবে।
বিমানবাহিনীর এই রাডার পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমানে ব্যবহৃত পুরনো এএন/এপিকিউ-১৬৬ সেন্সরের পরিবর্তে উন্নত এএন/এপিকিউ-১৮৮ রাডার স্থাপন করা। আইজেনহাওয়ার আমলের এই বোমারু বিমানগুলো যেন ২০৫০ সাল পর্যন্ত আকাশে উড়তে পারে, সেজন্য মোট ১৩টি পর্যায়ের আধুনিকায়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ বিলিয়ন ডলার।
প্রকল্পটি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। সরকারি জবাবদিহিতা দপ্তরের (জিএও) তথ্য অনুযায়ী, রাডার আধুনিকায়নের বাজেট ৩০ শতাংশ বেড়ে ২.৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর ফলে কর্মসূচিটি মূল সময়সীমার চেয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে ২০৩০ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটিতে এই কর্মসূচির সাথে যুক্ত একটি পরীক্ষামূলক বিমানের দুর্ঘটনায় আটজন ক্রু নিহত হন। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান থাকায় এবং খরচের সীমাবদ্ধতার কারণে বিমানবাহিনীকে কিছু পারফরম্যান্স চাহিদা কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বর্তমানে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও প্রকল্পের সময়সূচী পুনর্নির্ধারণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।